সব্যসাচী সরকার- বিশ্বকাপের পারদ যত চড়ছে, ক্রিকেট জুয়াড়িরাও তৎপর হয়েছে। ভারত–‌ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের দিনও ধরা পড়েছে জুয়াড়িরা। পরিস্থিতি এমন, এখন শুধু ভারতের খেলা হলেই নয়, অন্য যে–‌কোনও দু’‌দল খেললেই, জুয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। মূলত এই জুয়াড়িরা বেশির ভাগই কালো টাকা খেলার বাজারে খরচ করে থাকে। লক্ষাধিক টাকার ওপরে ধরা পড়লে, তখন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা শুরু হয়।
কতকগুলি ধাপে ক্রিকেট–‌জুয়ায় টাকা ধরা হয়। কে জিতবে, ওভারপ্রতি ৪ ও ৬ রানের অনুপাত, মোট রান, সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি— সবেতেই টাকা নামানো হয়। জুয়ায় যারা জেতে, তাদের অ্যাকাউন্টে বা লোক মারফত টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুরো খেলাই হয় পরিচিতদের মধ্যে। বুকির মাধ্যমে জুয়ার এই ‘‌সার্কিট’‌–‌এ ঢুকতে হবে। তবে অপরিচিত ব্যক্তি হলে, তাকে পরিচিত জুয়াড়ির হাত ধরে খেলায় ঢুকতে হবে। যদি দেখা যায় সেই ব্যক্তি কোনও ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তা হলে, যার মাধ্যমে ঢুকেছে এবং যে ঢুকেছে, দুজনকেই বয়কট করা হবে। সারা দেশের কোনও রাজ্যেই ক্রিকেট জুয়াড়িরা তাদের খেলায় নেবে না। বলা যায়, জুয়াড়িদের জগতে এরা ‘‌ব্ল্যাক লিস্টেড’‌!‌
ক্রিকেট জুয়ার কয়েকটি শর্ত রয়েছে। একেকটি ম্যাচ অনুযায়ী, সেদিন জুয়াড়িরা কত টাকা ঢেলেছে, তা কোথাও বলা যাবে না। দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন ভাগে টাকা ধরা থাকে। ম্যাচের শেষে যারা জিতবে, অন্যরা সেই টাকা দিয়ে দেবে। এক্ষেত্রে জুয়ার টাকা ফেরত দেওয়ায় জুয়াড়িরা প্রকৃতই সৎ!‌
একসময় কলকাতায় শোভান এবং জুনিয়র ক্রিকেট জুয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। মহারাষ্ট্রের ক্যান্ডিভেলিতে শোভান ধরা পড়ে। এদেশে ক্রিকেট জুয়ার সার্কিটে টাকার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে সেই মহারাষ্ট্র। তবে দিল্লি, লক্ষ্ণৌ, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এমনকী কলকাতার বড়বাজারও ক্রিকেট জুয়ার বেশ পরিচিত জায়গা হয়ে উঠেছে।
এখন চলে এসেছে অ্যাপ–‌নির্ভর জুয়া। এ ছাড়াও জুয়াড়িরা নিজেদের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলে। যতক্ষণ খেলা চলে, সেই গ্রুপ থাকে। খেলা শেষ হলে টাকাপয়সার কথাবার্তা মিটে গেলে, ওই গ্রুপ মুছে দেওয়া হয়। কারণ, পুলিশি ধরপাকড়। ধরপাকড় তো হচ্ছেই। বিশ্বকাপ বাজারে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল, ল্যাপটপ। এবং নগদ টাকাও। 
কীভাবে খেলা?‌
ধরা যাক ভারতের সঙ্গে অন্য একটি দেশের খেলা চলছে। সেদিনই ঠিক হবে কত টাকা খেলোয়াড়, মোট রান, সেঞ্চুরি, হাফ‌ সেঞ্চুরি পিছু ধরা হবে। এর পর থাকে বিশেষ বিশেষ খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের ওপর। বৃষ্টি হবে কি না, ওভার কমে যাবে কি না—এসব নিয়েও আলাদা আলাদা দর ওঠে। পুলিশ খোঁজখবর রাখে। ধরাও পড়ে। কিন্তু ক্রিকেট জুয়াড়িরা যেন রক্তবীজের বংশধর!‌ দু’‌দিন জেলে থেকে, বেরিয়ে এসেই আবার একই জুয়া খেলে। কলকাতা পুলিশের এমন অভিজ্ঞতাও আছে, একই ব্যক্তি বা তার দলবল বছরে অন্তত দু–‌তিনবার করে ধরা পড়ে। বেরিয়ে এসে আবার ক্রিকেট জুয়া খেলে। এই খেলায় উপকরণ সামান্যই। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকেই এখন ক্রিকেট জুয়াড়ি ধরা পড়ছে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top