সব্যসাচী সরকার, বিপ্লব সরকার- রাজ্যে লকডাউনের তৃতীয় দিন এবং দেশে প্রথম দিনে পরিস্থিতি কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে একইরকম। তবে, কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এবং লাগোয়া জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু মানুষ লকডাউনের নিয়ম ভেঙেছেন। পুলিশ কঠোর হাতে তা দমন করেছে। অনেক জায়গাতেই বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরির জন্য পুলিশ তাড়া করেছে। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১৩০২ জনকে। এর মধ্যে ৬৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে মাতলামোর জন্য। এবং লকডাউন ভাঙার জন্য ৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা জানিয়েছেন, প্রত্যেককে অনুরোধ করা হচ্ছে বাড়িতে থাকুন। এবং প্রশাসনকে সাহায্য করুন।
বুধবার কলকাতায় শৃঙ্খলার চিত্রও দেখা গেছে। বেলেঘাটা, উল্টোডাঙা, গুরুদাশ দত্ত গার্ডেন লেনে বহু মানুষ রাস্তায় এঁকে দেওয়া বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। সহনাগরিকের থেকে দূরত্বে দাঁড়িয়ে ওষুধপত্র, বাজারহাট সবই করেছেন। ওষুধের দোকানগুলিতে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। বেশি টাকার ওষুধ কিনলে যে ছাড় পাওয়া যেত, এখন তা দেওয়া হচ্ছে না। অড়েক জায়গায় চাহিদামতো ওষুধও নেই। হাওড়া ব্রিজে এদিন অন্য চিত্র দেখা গেল। ব্রিজের একটা দিক দিয়েই গাড়ি যাতায়াত করবে। বাকি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। ব্রিজের দুপারেই পুলিশ মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে। গাড়ি নিয়ে কেউ গেলেই, থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বড়বাজারের ক্যানিং স্ট্রিটের ছবিও একইরকম। সমস্ত বড় বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোর মূল ফটকে তালা। নিয়মশৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য কয়েক জায়গায় র‌্যাফ টহল দিচ্ছে। ধর্মতলা জনহীন। শিয়ালদা স্টেশনের ছবিও এক। তবে কয়েক জায়গায় দেখা গেল দু’‌‌একটি সরকারি বাস চলছে। সাইকেল চালিয়ে কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা। এমন ছবিও দেখা গেছে। কয়েকটি ফুটপাথে এখনও ফুটপাথবাসীরা কলকাতার ওইটুকু অংশ আগলে পড়ে আছেন।
ওয়েলিংটন থেকে মেডিকেল কলেজের দিকে আসার রাস্তায় দেখা গেল সরু সরু গলির রাস্তাগুলো পুলিশ বন্ধ করে রেখেছে। রাস্তায় খেলাধুলোও সেভাবে দেখা যায়নি। টহলদারি পুলিশ রয়েছে সর্বত্র। রাইটার্সের সামনের রাস্তায় গাছ থেকে পাতা পড়ে অর্ধেক রাস্তা ঢেকে রেখেছে। লকডাউনের জন্য রোজকার ঝাঁটও পড়েনি। মুটে–‌মজুর, ঠেলাওয়ালাদের বড় কঠিন সময় যাচ্ছে। কারণ, তাদের মতোই বহু দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের দুর্দশা। খাবারের দোকানপাট বন্ধ থাকার জন্য খুঁজে খুঁজে ফিরতে হচ্ছে।
বুধবার সকালে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক জায়গাতেই দেখা গেছে, সংবাদপত্র খুঁজতে বেরিয়েছেন স্থানীয় মানুষরা। এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে টাকা। অনেকেই বলছেন, টাকাতেও নাকি ভাইরাস থাকে। তবে, তা নিয়ে তর্ক–‌বিতর্ক বেঁধে যাচ্ছে। খবর পাওয়া গেছে, পণ্য সামগ্রী বোঝাই ট্রেন ঢুকেছে। আলু–‌পেঁয়াজের লরিও এসেছে বিভিন্ন এলাকায়। তবে, হা–‌হুতাশ করা মানুষের সংখ্যা কমেনি।
উল্টোডাঙা থেকে বিমানবন্দর এলাকা ওইদিকে চিনারপার্ক হয়ে সেক্টর ৫–‌এর দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে আসতে আসতে দেখা গেল একেবারে শূন্যতার ছবি। বিশ্ববাংলা গেটের চারমাথার মোড়ে এক ঘণ্টা অন্তর হয়ত একটি গাড়ি যাচ্ছে। সমস্ত রাস্তাই জনমানুষহীন। আগামী বেশ কয়েকদিন এই ছবিটাই স্থির হয়ে থাকবে।‌

কলকাতা। বুধবার সকালে বিজয় সেনগুপ্তের তোলা ছবি।

জনপ্রিয়

Back To Top