আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌‌আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে দেদার বিকোচ্ছে চীনা মাঞ্জা। কলকাতা–সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ওই মাঞ্জা ব্যবহার করে ঘুড়ি ওড়ানো হচ্ছে। এর ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। মানুষ তো আহত হচ্ছেন, আঘাত পাচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে পাখি, নষ্ট হচ্ছে গাছ। ওই জাতীয় সুতো তৈরি, কেনা, বিক্রি ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। কিন্তু তারপরও দিব্যি চীনা মাঞ্জা দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হচ্ছে। 
কী এই চীনা মাঞ্জা?‌ ঘুড়ি, সুতো বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, নাইলনের সুতোর ওপরে সিন্থেটিক আঠা দিয়ে ধাতুর মাঞ্জা দেওয়া। হাতে নিলে বোঝা যাবে ধার কেমন। আর দাম সাধারণ মাঞ্জা সুতোর থেকে বেশ কম। তাই এটার চাহিদা রয়েছে। আগে আসত চীন থেকে। তবে এখন সে–সব বন্ধ। দেশেই তৈরি হচ্ছে ওই সুতো। বেঙ্গালুরু থেকে গাড়ি গাড়ি সুতো আসে খড়দা, মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর এলাকায়। সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে। সেই সুতোর নামও জবরদস্ত!‌ ‘‌ডবল ব্লেড’, ‘‌অক্টোপাস’‌। ধার ব্লেডের থেকে কম কোথায়!‌ এই সুতোর সামান্য ঘষাতেই ফালাফালা হয়ে যেতে পারে চামড়া। এর আর একটা ‘‌শক্তি’‌ হল জল লাগলেও পরোয়া নেই। কোনও কিছু হবে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, অল্পবয়সীদের কাছে নাইলন মাঞ্জারই চাহিদা বেশি। এর থেকে সাধারণ সুতোর মাঞ্জার দাম অনেকটাই বেশি। নাইলন এক হাজার মিটার ৮০ টাকা থেকে শুরু। সেখানে সাধারণ সুতোর মাঞ্জার দাম শুরুই হয় ১২০ টাকা থেকে। কিন্তু নাইলনের মাঞ্জার সঙ্গে ঘষা খেলেই ওই সুতো কেটে যায়। সেজন্যই নাইলনের চাহিদা। তবে কলকাতার একাংশের ব্যবসায়ীরা আশার কথাও জানাচ্ছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল কাইট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন নেতা, ঘুড়ি–সুতো ব্যবসায়ী বাপ্পাদিত্য দত্ত বলেন, ‘‌আমি ওই সুতো বিক্রি করি না। আমার পরিচিত দোকানদারেরাও বিক্রি করেন না।’‌ 
পরিবেশপ্রেমীরা অন্য এক উদ্বেগের কথা জানালেন। পাখি শিকারের কাজে লাগানো হচ্ছে এই মাঞ্জা সুতোকে। ময়দান, ব্রেসব্রিজ, সাঁতরাগাছি ঝিল, তিলজলা ও বাইপাস সংলগ্ন বিভিন্ন জলাভূমি, হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় ওড়ানো হচ্ছে ঘুড়ি, সুতোয় গাঁথা হচ্ছে বঁড়শি। পাখির দল বিকেলে জলাভূমির দিকে উড়ে আসার সময় তাতে আটকে গেলে সুতো কেটে নামিয়ে নিচ্ছে চোরাশিকারিরা। এ ব্যাপারেও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
কলকাতায় একের পর এক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এই মাঞ্জা সুতো। রক্তাক্ত হচ্ছেন বাইক আরোহীরা। ‘‌মা’‌ উড়ালপুলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন বাইকচালকেরা। বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা বুঝতেই পারেননি কী হতে চলেছে। কখন যে গলা ‘‌কেটে’‌ দিয়েছে চীনা মাঞ্জা, ধরতে পারেননি। মা উড়ালপুলের গার্ডওয়াল থেকে ৭–৮ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত জাল লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই মাঞ্জা সুতোর ব্যবহার বন্ধ করতে হেল্পলাইন চালু করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে প্রচারও করছে তারা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top