শান্তনু সিংহরায়: বাড়িতে সরবরাহ করা পানীয় জলে চলছে স্পা সেন্টার!‌ কোথাও আবার পানীয় জলে গাড়ি ধোওয়া হচ্ছে, চলছে বাগান পরিচর্যা। রাস্তার কল থেকে নাগাড়ে জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে। জল অপচয় চলছে বিধাননগরে। পাশাপাশি নিয়মিত জল ‘‌চুরি’‌ করে চলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ। কেউ পুরনিগমের জলের লাইনে পাম্প বসিয়ে বাড়িতে বাড়তি জল টেনে নিচ্ছেন, আর পাশের বাড়ির বাসিন্দারা কম জল পাচ্ছেন। বেশ কিছু জায়গায় আবার দেখা যায় রাস্তায় জলের প্রধান লাইনের ‘‌এয়ার ভাল্‌ব’‌ আলগা করে জল টেনে নিচ্ছেন অনেকে। জারিকেনে ভরে তা বিক্রিও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু করেছেন পুরকর্তারা। পাম্প বসিয়ে বেআইনিভাবে জল টেনে নেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বিধাননগরে এখন ব্লকে ব্লকে স্পা সেন্টার। আবাসিক বাড়িতেই। স্পা–তে প্রতিদিন প্রচুর জল লাগে। মহার্ঘ টালা–পলতার বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার হচ্ছে রূপচর্চায়। এক পুরকর্তা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ স্পা সেন্টারেরই কোনও অনুমোদন নেই। জলের জন্য কোনও টাকাও দিতে হচ্ছে না তাদের। খোঁজখবর শুরু হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ির জন্য সরবরাহ করা জল দিয়ে কিছু কিছু জায়গায় ব্যবসা চলছে। তদন্তে দেখা গেছে, সুইমিং পুলের জন্য পানীয় জল ব্যবহার করা হচ্ছে!‌ বিধাননগর পুরনিগমের জল সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী বাস্তুকার স্বপন মৈত্র বলেন, ‘‌কিছু কিছু জায়গায় ট্যাপ কল থেকে জল পড়ে যাচ্ছে। বাসিন্দারা জল নিয়ে কল বন্ধ করছেন না। বিধাননগরের কোনও কোনও বাড়িতে বাসিন্দাদের সংখ্যা কম থাকায় ট্যাঙ্ক থেকে জল উপচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ধোওয়া, বাগান করার জন্য প্রতিদিন পানীয় জলের অপচয় তো হচ্ছেই, কিছু বাড়িতে পাম্প দিয়ে বাড়তি জল টেনে নেওয়া হচ্ছে, ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’‌ 
পুরনিগম সূত্রে খবর, বিধাননগরে প্রতিদিন ৭৫ লক্ষ গ্যালন টালা–পলতার পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। বাসিন্দাদের চাহিদা মেটানোর জন্য আরও ১ লক্ষ ৫০ হাজার গ্যালন জল ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে মাটির তলা থেকে তুলে সরবরাহ করা হয় প্রতিদিন। তবে নিউটাউনে রাজ্য সরকারের জল প্রকল্প থেকে পুরোপুরি জল সরবরাহ শুরু হয়ে গেলে আর মাটির তলার জল তুলতে হবে না। বাসিন্দারা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাবেন। শুধু রাজারহাট অংশের ১ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডই প্রতিদিন ১২০ লক্ষ গ্যালন জল পাবে, নিউটাউনের ওই প্রকল্প থেকে।‌‌‌‌

অপচয়। কলকাতার রাস্তায়। ছবি: তপন মুখার্জি 

জনপ্রিয়

Back To Top