আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হাসপাতালে ভর্তি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শুক্রবার দুপুর থেকেই তাঁর রক্তচাপ নেমে ৫০/‌৭০ হয়ে যায়। তার সঙ্গেই বাড়তে থাকে শ্বাসকষ্ট। এরপরই বুদ্ধদেবের বাড়ি থেকে প্রথমে সিপিএম পার্টি অফিসে যোগাযোগ করা হলে পাম অ্যাভিনিউয়ে তাঁর বাড়িতে চলে যান সিপিএম নেতা ও চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। তাঁর পরামর্শেই রাত ৮.‌৩৫ মিনিট নাগাদ বুদ্ধদেবের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য এবং একমাত্র সন্তান সুচেতনা তাঁকে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইটিইউ–তে ভর্তি করেন। আইটিইউ–র ৫১৬ নম্বর বেডে ভর্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। চিকিৎসক কৌশিক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল তাঁর চিকিৎসা করছে। রাত ৯.‌৪৫ মিনিট নাগাদ হাসপাতালের সিইও জানালেন, বুদ্ধদেবকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তাঁর রক্তচাপ অত্যন্ত কম ছিল। তবে জ্ঞান হারাননি তিনি। শরীরে অক্সিজেন এবং হেমোগ্লোবিনের অভাব থাকায় রক্ত দিতে হয়েছে। বার্ধক্যজনিত সমস্যাও রয়েছে। তবে আপাতত সামান্য স্থিতিশীল আছেন বুদ্ধদেব। অস্ফুষ্টে তাঁকে ঘিরে থাকা মানুষজনকে বলেছেন তিনি ভালো আছেন।

 
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েই রাত ৮.‌৫০ মিনিট নাগাদই হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। হাসপাতালে গিয়েই চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বুদ্ধদেবের চিকিৎসায় যেন কোনওরকম গাফিলতি না থাকে। রাত প্রায় ৯.‌৪৫ মিনিট বেরনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘এখন কিছুটা স্বাভাবিক আছেন বুদ্ধদেব। তবে হেমোগ্লোবিন কম থাকায় ব্লাড দিতে হবে। উঠেও বসেছেন।’‌ হাসপাতালে আছেন সিপিএম–এর রাজ্য সম্পাদক সূ্র্যকান্ত মিশ্র সহ দলীয় নেতাকর্মীরা। গিয়েছেন কংগ্রেসের নেতারাও।
দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন বুদ্ধদেব। সেজন্য দীর্ঘদিন ধরেই বাইরে বেরোতেন না। এবছর সিপিএম–এর ব্রিগেডে এলেও মঞ্চে ওঠেননি। বাড়িতে চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতেই দেখতে যেতেন। সম্প্রতি বুদ্ধদেবকে তাঁর বাড়িতেই দেখে এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

 

 

 

নার্সিংহোমে মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে। ছবি: দীপক গুপ্ত     ‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top