বিভাস ভট্টাচার্য: বিপর্যস্ত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে আনাই আপাতত লক্ষ্য। মঙ্গলবার বৌবাজারে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনের পর এ কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ভূতত্ত্ববিদ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.‌ নীতিন সোম। বিপর্যস্ত এলাকার বাড়িগুলির হাল হকিকত খতিয়ে দেখতে পঁাচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়েছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (‌কেএমআরসিএল)‌। এদিন তারা বেশ কয়েকটি বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। বাড়িগুলির অবস্থা অনুযায়ী তাদেরকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হবে। সুড়ঙ্গে জল ঢোকা আটকাতে যে নতুন বঁাধটি তৈরি হয়েছে তা মজবুত হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাইরের জল আটকাতে বঁাধে জলের চাপ বাড়ানো হবে। এদিনও দুর্গা পিথুরি লেনে বাড়ি ভাঙা যেমন চলেছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি থেকে যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে গেছেন বাড়ির বাসিন্দারা। 
মঙ্গলবার দুর্গা পিথুরি লেন, স্যাকরাপাড়া লেন এবং গৌর দে লেনে ১১টি বাড়ির পরিস্থিতি দেখার পর আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন ড.‌ নীতিন সোম। বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত যাতে বাসিন্দাদের 
তঁাদের বাড়িতে ফের ফিরিয়ে আনা যায়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। সেইসঙ্গে সুড়ঙ্গের কাজও অবশ্যই শেষ করতে হবে। যে বাড়িগুলি আমরা দেখেছি, সেগুলি কতটা পুরনো বা নতুন সেই বিষয়গুলিও দেখা হয়েছে। বাড়িগুলির অবস্থা অনুযায়ী তাদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। অল্প মেরামতযোগ্য, বেশি মেরামতযোগ্য এবং মেরামত করা কঠিন, এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই এই শ্রেণিবিন্যাস যাতে করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরামতের জন্য যন্ত্র বা মেরামতি দ্রব্য, দু’‌ধরনের জিনিসই ব্যবহার করা হতে পারে।  
মঙ্গলবার কেএমআরসিএলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ দেওয়ানজি জানিয়েছেন, নতুন যে 
বঁাধটি তৈরি হয়েছে, সেটি ইতিমধ্যেই শক্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে জলের চাপ বাড়ানো হবে। 
কেন এই দ্বিতীয় বঁাধটি তৈরি করা হল সে প্রশ্নে চিফ ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবেই এই বঁাধটি তৈরি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া নিয়ে সোনার গয়না তৈরি করেন অনেক কারিগর। স্থানীয় সোনা ব্যবসায়ী বিজয় জয়সওয়াল বলেন, ৮০০’‌র কাছাকাছি এই ধরনের কারিগর এখানে নানা জায়গায় কাজ করেন। এই ঘটনার পর তঁারা বেকার হয়ে গেছেন। আমার কাছেই কাজ করেন ৪০ জন কারিগর। কাউকে কাজ দিতে পারছি না। কারণ, দুর্গা পিথুরি লেনে আমার অফিসে ঢুকতেই পারছি না। 
এদিনও দুর্গা পিথুরি লেনে নিজের বাড়ি থেকে পূর্ব পুরুষের সংগ্রহ একটি বুদ্ধমূর্তি বের করে আনেন দিলীপ লাহা। তঁাদের বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। সেই দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে উঠলেন, কত ইতিহাস চাপা পড়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top