দীপঙ্কর নন্দী: আজ ধর্মতলায় ২১ জুলাই উপলক্ষে ঐতিহাসিক সমাবেশ  করতে চাইছে তৃণমূল। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মানুষ কলকাতায় এসেছেন। ধর্মতলায় এদিন মমতা বলেন, ‘‌রবিবার ছুটি থাকে। ২১ জুলাই এবার রবিবার পড়েছে। তাই উৎসাহ কিছুটা যেন কম।’‌ অন্যদিকে মঞ্চের প্রস্তুতি শেষ। ধর্মতলার চারিদিক সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই মঞ্চ থেকেই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নতুন বার্তা দেবেন। ইভিএম নয়, ব্যালট ফেরানোর দাবিতে এবার সভা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৩ জন শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। শনিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ধর্মতলায় এসেছিলেন। নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌ইভিএম যারা তৈরি করেছে তারাই এখন ব্যবহার করে না। ইভিএম সম্পর্কে নানা অভিযোগ আসছে। তাই আমরা ব্যালট ফেরানোর দাবি করেছি।’‌ 
বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনে করে দলের কর্মীরা আসছেন। মমতার কাছে অভিযোগ এসেছে, ট্রেন কম দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে বিজেপি–‌র হাত আছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‌৩০ শতাংশ ট্রেন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি যখন রেলমন্ত্রী ছিলাম তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের কর্মসূচির জন্য ট্রেনে অনেক ছাড় দিতাম। বিজেপি এখন রাজনীতি শুরু করেছে।’‌
এদিন মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌২১ জুলাইয়ের শহিদ সভা ২৬–‌এ পা দিল। আমি এই ধর্মতলাতেই ভোটার কার্ড নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম। এই আন্দোলনের ফলেই ভোটার কার্ড চালু হয়। নির্বাচন সংস্কারের কথা আমি বহু বছর থেকে বলে আসছি। কেন এত কালো টাকা ভোটে খরচ করা হবে?‌ এই কালো টাকা ঠেকাতেই নির্বাচন সংস্কারের প্রয়োজন। নির্বাচনে স্বচ্ছতা রাখতে হবে। কেন নির্বাচনের জন্য টাকা তোলা হবে?‌’‌ 
প্রায় সব জেলা থেকেই দলের কর্মীরা কলকাতায় এসে পড়েছেন। রবিবার সকালে আরও কর্মী আসছেন। তাঁদের রাখা হয়েছে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক, উত্তীর্ণ, গীতাঞ্জলি ও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। নেতারা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন। খাওয়া দাওয়া ও থাকারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বহু মহিলা বিভিন্ন জেলা 
থেকে এসেছেন। l ১ পাতার পর
রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি সকাল থেকে রাত অবধি ধর্মতলাতেই রয়েছেন। এদিন সভাস্থল পরিদর্শন করে যান নগরপাল অনুজ শর্মা। শনিবারও বিভিন্ন জায়গায় মিটিং মিছিল হয়েছে। মমতা এদিন বলেছেন, ‘‌২০২১–‌এর নির্বাচনের ৩ মাস আগে আমরা ভাবতে শুরু করব। তার আগে মানুষের কাজ আমাদের করে যেতে হবে। ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বহু কাজ হয়েছে। আরও কাজ আমাদের করতে হবে। 
নেতারা আশা করছেন, মমতা দলের সংগঠন নিয়ে কিছু পরামর্শ দেবেন। আগামী বছর কলকাতা পুরসভা, বিধাননগর–‌সহ বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচন। তার পরের বছর বিধানসভা নির্বাচন। কর্মীদের কী করতে হবে, তার দিশা দেখাবেন মমতা। নির্বাচনের পর ফলাফল পর্যালোচনা করছেন দলনেত্রী। বিভিন্ন জেলার সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাঁর বক্তব্য, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দল ঘুরে দাঁড়াবে। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। জনসংযোগ আরও তৈরি করুন। মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। সরকারি পরিষেবা ঠিকঠাক মানুষ পাচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখুন।
কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শিবির করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা শিবিরে আছেন। চিকিৎসাশিবিরও করা হয়েছে। কীভাবে মিছিল সভাস্থলে আসবে, তা বলে দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা তৈরি আছেন। রেসকোর্সের সামনে শিবির থেকে মুড়ি–‌বাতাসাও দেওয়া হবে। অনেকে বাসে করে ধর্মতলায় আসবেন। যানবাহন কোথায় রাখা হবে, প্রশাসন থেকে সব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলি থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ফ্ল্যাগ–‌ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জি এদিন সব কিছু দেখভাল করার জন্য ঘুরেছেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top