শান্তনু সিংহরায়: আমফানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিধাননগর পুরনিগম এলাকাতেও। ভেঙেছে ঘর, বাড়ি। উড়েছে ঘরের চাল। বহু গাছ উপড়েছে। ভেঙেছে অগুনতি লাইটপোস্ট। গাছ পড়ে এখনও অনেক রাস্তা বন্ধ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। কাজ করছে না মোবাইল ফোন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন পুরকর্মী, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংস্থার লোকজন। সবথেকে খারাপ অবস্থা পুরনিগম এলাকার রাজারহাট ও নিউ টাউন অংশে। কয়েক হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জলও জমে যায় অনেক এলাকায়। তেঘড়িয়াতে জল জমে সমস্যা দেখা দেয়। পাম্প দিয়ে জল বের করে স্বাভাবিক করা হয় পরিস্থিতি।
বুধবার সারাদিন পুরভবনে বসে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি মেয়র তাপস চ্যাটার্জি এবং অন্যান্য মেয়র পারিষদ ও অধিকারিকেরা। বিশেষ কন্ট্রোল রুম সক্রিয় ছিল। বাড়ি ভাঙা, গাছ পড়া বা বিপর্যয়ের খবর পেলেই ছুটেছে বিপর্যয় মোকাবিলার দল। স্ট্যাক ইয়ার্ডে আলাদা কন্ট্রোল রুম বসে মেয়র পারিষদ (নিকাশি) দেবাশিস জানাও পরিস্থিতি তদারকি করেন। বৃহস্পতিবার অবস্থা খতিয়ে দেখতে আধিকারিকদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন মেয়র। কৃষ্ণা বলেন, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। আমি, আমার পারিষদ ও কাউন্সিলররা, আধিকারিক, সকলে রাস্তায় থেকে কাজ করছি। আশ্রয় শিবিরে থাকা মানুষদের খাবার, পানীয় জল, ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে মাস্ক, স্যানিটাইজার।
বিধাননগর পুরনিগম এলাকার শুধু সল্টলেক অংশেই ভেঙেছে প্রায় ২৫০০ গাছ। কোথাও গাছ পড়ে পাঁচিল ভেঙেছে, কোথাও বন্ধ করেছে বাড়িতে ঢোকার পথ। ঝড়ে বহু বাড়ির জানলা, দরজার কাচ ভেঙেছে। দত্তাবাদ এলাকায় প্রায় ২৫০ বাড়ি ভেঙে বা চাল উপড়ে যায়। ৩০০ মানুষকে অস্থায়ীভাবে কাদাপাড়া মোড়ের সাবওয়েতে রাখা হয়। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডেও কুলিপাড়া, ছয়নাভি, খাসমহল, বাসন্তীদেবী কলোনি, নাওভাঙ্গা, শান্তিনগর এলাকার বহু মানুষকে অস্থায়ী শিবিরে রাখা হয়েছে। ২৮ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডেও শিবির করা হয়েছে। ঝড়ের সময় মহিষবাথানে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বাঁশঝাড়ে আগুন ধরে যায়।
রাজারহাট ও নিউ টাউন অংশে কাঁচাবাড়ির সংখ্যা অনেক। স্বাভাবিকভাবে ক্ষতি হয়েছে। আগেই অনেককে ত্রাণ শিবিরে এনে রাখা হয়েছিল। পরে আরও বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় গাছ, ইলেকট্রিক পোস্ট পড়ে বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কেষ্টপুর এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৬০০ বাড়ি, ৩০০–‌রও বেশি লাইটপোস্ট ভেঙেছে বলে এখনও পর্যন্ত খবর। মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, রাতে মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু আমাকে ফোনে জানান সাংসদ দোলা সেনের বাড়ির এলাকার পরিস্থিতি খারাপ। এরপর আমি নগরপাল লক্ষ্মীনারায়ণ মিনার সঙ্গে যোগাযোগ করি। পাম্প দিয়ে জমা জল সরানো হয়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top