আজকালের প্রতিবেদন: ১০ সেপ্টেম্বর বাম সমর্থিত কংগ্রেসের ডাকা ভারত বন্‌ধে শামিল হচ্ছে না ফরওয়ার্ড ব্লক। তৃণমূল আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা বন্‌ধে নেই। ওইদিন তৃণমূল মিছিল করবে। বন্‌ধে ফরওয়ার্ড ব্লক না থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিজেল, পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসে অত্যধিক দাম বৃদ্ধি হওয়ায় কংগ্রেস বন্‌ধ ডেকেছে। ওইদিন জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য রাজ্য সরকার থেকে সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, যাঁরা ওইদিন অনুপস্থিত থাকবেন তাঁদের একদিনের ছুটি ও বেতন কাটা যাবে। এমনকী অর্ধদিবস ছুটিও নেওয়া যাবে না। তৃণমূলের তরফ থেকে বলা হয়েছে তারা বন্‌ধকে সমর্থন না করলেও ইস্যুগুলিকে সমর্থন করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ইতিমধ্যে জ্বালানির দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে 
সোচ্চার হয়েছেন।
শনিবার তৃণমূল ভবনে দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ‘‌বন্‌ধের দিন মৌলালি থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করা হবে। দুপুর দুটোয় জমায়েত, মিছিল শুরু হবে তিনটে থেকে। রাস্তার একধার দিয়ে মিছিল যাবে। সাধারণ মানুষের যাতে অসুবিধে না হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে। তবে প্রতিবাদ তো করতেই হবে।’‌ এই মিছিলে তিনি ছাত্রছাত্রীদের শামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ওইদিন নবান্নে যাবেন। বিকেল ৪টেয় নেতাজি ইনডোরে পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পার্থ এই বন্‌ধকে ‘‌কর্মনাশা’‌ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌যাঁরা দেশকে ওইদিন অচল করতে চান, আমরা তাঁদের বিরোধী। বন্‌ধ, ধর্মঘট করে অনেক কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। আর নয়। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এ রাজ্যে বন্‌ধ, ধর্মঘট হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বন্‌ধ, ধর্মঘটের বিরুদ্ধে।’‌ এদিন পার্থ বলেন, ‘‌বন্‌ধের দিন অফিস, বাজার, দোকান— সব খোলা থাকবে। প্রতিবাদ মিছিলও চলবে। তৃণমূলের কর্মীরা কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।’‌
পার্থ বলেন, ‘‌বামফ্রট এখন লুপ্ত। ফ্রন্ট শুধু সূর্য এবং সুজনের!‌’‌ বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘উনি তো গামছা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বিজেপি–র আমলে জ্বালানির দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। তাই এক মুহূর্ত এদের সরকারে থাকা উচিত নয়।’‌‌
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি বন্‌ধকে সফল করতে কর্মীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অধীর নিজের ছবি পোস্ট করেছেন এদিন। কর্মীদের অধীরের বার্তা, সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত বন্‌ধ সফল করুন। 
ধর্মঘটে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য রাজ্য সরকার অতিরিক্ত সরকারি বাস, লঞ্চ চালাবে। জোর করে বন্‌ধ করা যাবে না। রাস্তায় রাজ্যের যে গাড়ি নামবে, তার কোনও ক্ষতি হলে বিমার ব্যবস্থা থাকবে। গাড়ি মালিকদের কাছে আবেদন, ভাঙচুর হলে ক্ষতিপূরণ পেতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ দায়ের করুন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য। পরিবহণ দপ্তর এই ব্যবস্থা করেছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top