আজকালের প্রতিবেদন—আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে খুন করে গ্রেপ্তার মা। ধৃত এক নাবালকও। ১ সেপ্টেম্বর শ্যামলাল স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পেতেই স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজখবর শুরু করেন। দেখা যায়, আড়াই বছরের শিশুকন্যা জবা দাসের পচাগলা দেহ। মেয়েকে কে খুন করল,‌ এই কথা বলে কান্নাকাটি শুরু করে দেয় মণি। খুনির সন্ধান শুরু করে উল্টোডাঙা থানার পুলিস। তদন্তে ১৭ বছর বয়সি এক নাবালকের সন্ধান মেলে। নাম সোমনাথ সরকার। সোমনাথের সঙ্গে জবা দাসের খুব গভীর ‘‌বন্ধুত্ব’‌ হয়েছিল। সোমনাথ ও জবা প্রায়ই রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিটে ঘোরাফেরা করত। স্বামীর সঙ্গে এই নিয়ে মণির বচসাও হত। সোমনাথ জেরায় বলে, মণি চাইছিল পুরনো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিযে আসতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শিশুকন্যা জবা। তাই মণি সিদ্ধান্ত নেয়, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে গেলে সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরাতে হবে। মণি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা সোমনাথকে জানায়। কিন্তু সোমনাথ খুন করতে চায়নি।
৩১ আগস্ট রাতে স্বামী বাড়ি ফেরার আগেই শিশুকন্যাকে গলা টিপে খুন করে ফেলে মণি। ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে একটি কাপড়ে জড়িয়ে দেহটি ফেলে দেয়। জবা কোথায় গেল?‌ একথা বলে নিজেই খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রতিবেশীদেরও জানায়। কিন্তু দু’‌দিন পেরিয়ে গেলেও জবার খোঁজ মেলেনি। তদন্তে নেমে পুলিস বুঝতে পারে, এই খুনের পেছনে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের যোগ রয়েছে। দুজনের ওপর নজরদারি শুরু হয়। তাতেই স্পষ্ট হয়, এদের দুজনের মধ্যেই কেউ খুনি।
স্বামীর সঙ্গে ঘর করে সুখ পাচ্ছিল না মণি। মনের মিলও হচ্ছিল না।  নিজের সন্তান খুনের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিসের কাছে অকপটে এই কথাই বলেছে ধৃত ৩২ বছরের মণি দাস।‌

জনপ্রিয়

Back To Top