আজকাল ওয়েবডেস্ক: করোনার বাড়বাড়ন্তে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। দেশের সর্বত্র বাড়ছে কোভিড সংক্রমণের হার। চিকিৎসা পরিষেবা দিতে নাজেহাল অবস্থা হাসপাতালগুলির। কোথাও বেডের অভাব তো কোথাও নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপোর্ট। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হচ্ছে করোনা আক্রান্তদের। শহর কলকাতাতেও এদিন এক হাসপাতালে দেখা দেয় অক্সিজেন সংকট। হাসপাতালে রয়েছে মাত্র আর ১ ঘণ্টা চালানোর মতো অক্সিজেন। আর সেই অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে মারা যাবেন ৭৩ করোনা রোগী। এমতাবস্থায় অক্সিজেনের জোগাড় হবে কীভাবে! রোগীদের প্রাণ বাঁচানো যাবে তো এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেতে শুরু করে গড়িয়ার রেমেডি হাসপাতালের চিকিৎসকদের। শহরে অক্সিজেন সংকটের খবর যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রর কাছে। তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেন তিনি। এর পাশাপাশি রেমেডি হাসপাতালে অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে এ খবর পৌঁছে যায় স্বাস্থ্য দপ্তরে এবং বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছেও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে দেয় সকলে। কলকাতা পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ৯টি সিলিন্ডার জোগাড় করে পাঠায় রেমেডি হাসপাতালে। এর পাশাপাশি বারুইপুরের এসডিও লিন্ডের কাছ থেকে ৪০টি বি টাইপ সিলিন্ডার নিয়ে পাঠানো হয় রেমেডি হাসপাতালে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বারুইপুর হাসপাতাল থেকে ১৩টি এবং এমআর বাঙুর হাসপাতাল থেকে ১০টি সিলিন্ডার পাঠানো হয় রেমেডি হাসপাতালে। কলকাতা পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতায় রাত ১১টার মধ্যেই ৭২টি সিলিন্ডার পাঠিয়ে দেওয়া হয় রেমেডি হাসপাতালে। আর বাঁচানো যায় ৭৩ জন কোভিড রোগীর প্রাণ। আবার কলকাতা প্রমাণ করল মানুষের বিপদে কীভাবে জেগে ওঠে শহরের মানুষ। মানবিকতা আজও বেঁচে রয়েছে এই শহরে তা বোঝা গেল। নির্ধারিত সময়ে ডোমজুড় থেকে যে অক্সিজেন আসার কথা ছিল রেমেডি হাসপাতালে তা পাঠানো যায়নি কারণ সেখানে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। তাই পরে রাত সাড়ে ৩ টে নাগাদ ডোমজুড় থেকে রেমেডিতে আসে ওই ৭২ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার।

জনপ্রিয়

Back To Top