আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আজ থেকে ঠিক ৩৯ বছর আগে নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকে গড়িয়াহাটের বিজন সেতু। ১৮৮২ সালের ৩০ এপ্রিল সকালে আনন্দমার্গের ১৭ জন সন্ন্যাসীকে মেরে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গে সেই সময় বামফ্রন্ট সরকার ছিল। জ্যোতি বসুর পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ উঠেছিল। গোটা ঘটনায় রাজ্য তোলপাড় হয়ে ওঠে। রাজ্যে ঘটেছিল শতাব্দীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড।

 

আজ চার দশক পেরিয়ে ফের একটা ৩০ এপ্রিল। অমর দধীচিগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পথে নামলেন আনন্দমার্গের শতাধিক সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী ও ভক্তকুল। করলেন মৌন মিছিল। সঙ্গে বিচার বিবাগীয় তদন্তের দাবি করলেন আনন্দমার্গীরা। এই দিনটিকে তারা ‘‌মানবতা বাঁচাও দিবস’‌ হিসেবে পালন করে থাকেন। 

এই অনুষ্ঠানে না দধীচিগণের দগ্ধ, বিকৃত প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের সাধারণ সম্পাদক আচার্য ভবেশানন্দ অবধূত, আচার্য সুতীর্থানন্দা অবধূত, আচার্য সর্বেশ্বরানন্দ অবধূত, আচার্য কল্যাণেশ্বরানন্দ অবধূত, আচার্য বীতমোহানন্দ অবধূত, রবীশানন্দ অবধূত, আচার্য তন্ময়ানন্দ অবধূত, আচার্য প্রিয়কৃষ্ণানন্দ অবধূত, আচার্য দিব্যচেতনানন্দ অবধূত, অবধূতিকা আনন্দ করুণা আচার্যা ও অবধূতিকা আনন্দ বিশোকা আচার্যা। আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত এই বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও সপ্তদশ দধীচিদের মহান আদর্শের জন্যে চরম আত্মত্যাগের বিষয়ে আলোচনা করেন। ১৯৮২ সালের ৩০ শে এপ্রিলের পৈশাচিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শ্রী বিভাংশু মাইতি সেই দিনের ঘটনার চাক্ষুষ বিবরণ ও আনন্দ মার্গের বিশ্বব্যাপী সেবামূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘ সেই ঘটনার পর থেকেই সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে ওই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে আসছে। আনুষ্ঠানিক বিচারবিভাগীয় তদন্তের জন্য বারংবার আবেদন জানানোর পর ২০১২ সালে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য একটি তদন্ত-কমিশন গঠন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিযুক্ত ‘‌অমিতাভ লালা তদন্ত কমিশন’‌ ইতিমধ্যেই তদন্তের শেষ করে প্রতিবেদন পেশ করেছে। আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের তরফে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কারা আসল দায়ী বা দোষী কারা তা এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে। 

Back To Top