‌আজকালের প্রতিবেদন: তাঁকে ফিরে দেখা। কবিতা, উপন্যাস, লেখালিখিতে যে–‌সময়বৃত্ত তাঁর লেখায় বাঁধা পড়েছে, তারই এক চর্চা–‌বাসর। বস্তুত বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাহিত্য অকাদেমি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ সেমিনারে বাংলা ও ভারতীয় ভাষার লেখকেরা তঁাকে স্মরণ করলেন। প্রচলিত স্মরণ–অনুষ্ঠান নয়, বক্তাদের ভাষণে ধরা পড়লেন এক অন্য সুভাষ।সাহিত্য অকাদেমির সহ–‌সভাপতি মাধব কৌশিক ভাষণে বললেন, ‘‌আমি নিজের চেষ্টায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা পড়েছি।’‌ হিন্দিতে অনুবাদ তঁাকে পড়তে হয়েছে। তঁার মাতৃভাষায় অনূদিত হননি সুভাষ। মাধব কৌশিক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় পড়ে কাইফি আজমির কথাই তঁার মনে হয়েছিল। দু’‌জনে একগোত্রীয়। অকাদেমির সচিব কে শ্রীনিবাস রাও বললেন, ‘‌সুভাষ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় সাহিত্যে একটি বিরাট মাপের নাম। আমরা তঁার জন্মশতবর্ষে নতুন করে আবিষ্কার করার চেষ্টা করছি।’‌
এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির চন্দ্রমুখী কাদম্বিনী সভাগৃহে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে নতুন করে জানতে এসেছিলেন সাহিত্যরসিকেরা। ছাত্রছাত্রীরাও। সাহিত্য অকাদেমির বেঙ্গলি অ্যাডভাইসরি বোর্ডের আহ্বায়ক সুবোধ সরকার বলেন, ‘‌স্প্যানিশ কবিতার জন্য পাবলো নেরুদা যা যা করেছেন, বাংলা কবিতার জন্য সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও তা–‌ই করেছেন। তঁার লেখা সমস্ত ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ হওয়া জরুরি।’‌ অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী বলেন, ‘‌কবিতাকে আন্তর্জাতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সুভাষ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’‌ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে পালন করা কর্তব্য। বাংলা কবিতাকে তিনি ৪০–‌এর দশক থেকে মানুষের মুখের ভাষায় এনেছেন। তিনি মানুষের কবি।’‌
এদিন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় ভাষায় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করেন প্রয়াগ শুক্লা, দিলীপ মায়েনবাম, বিনীতা। তঁার কবিতা সাধারণের ভাষা—‌ এ বিষয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক অশেষ গুপ্ত, দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও চিন্ময় গুহ। আজ, বৃহস্পতিবার কবিতাপাঠের আসর। সেখানে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতা পড়বেন। অন্যটি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে তঁার লেখা কবিতা পড়বেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top