সংবাদ সংস্থা
মস্কো, ১৮ সেপ্টেম্বর 

রাশিয়ার ভ্যাকসিন নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ যাঁদের ওপর ‘‌স্পুটনিক–‌ভি’‌ ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত স্তরে ট্রায়াল চলছিল, তাঁদের প্রতি সাত জনের মধ্যে এক জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘‌দ্য মস্কো টাইমস’‌। টিকার ডোজে মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলে জানানো হয়। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টও ভাল বলেই জানা গিয়েছিল।
গত মাসেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ভ্যাকসিন ভারতে আসতে পারে আগামী বছরই, এমন কথাও হচ্ছিল। কিন্তু রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাস্কো জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবকদের অনেকের বিভিন্ন দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, মাঝেমাঝে জ্বর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদিও কারও ক্ষেত্রেই এই সমস্যা স্থায়ী হয়নি।
প্রথম পর্যায়ে মাত্র ৭৬ জনের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেই কীভাবে ভ্যাকসিন সফল বলা হচ্ছে?‌ টিকার সুরক্ষাবিধিতেই বড়সড় প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ রাশিয়ারই অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং এথিক্স কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান ডক্টর আলেকজান্ডার।
তাঁর অভিযোগ ছিল, ভ্যাকসিন তৈরি ও তার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকা প্রধান দু’জন নিয়ম ভেঙে বেআইনিভাবে টিকার প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা হলেন গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভাইরোলজিস্ট আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ এবং রুশ সেনার মুখ্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সার্গে বোরিসেভিক। সরকারের এথিক্স কাউন্সিলের নিয়ম ভেঙে টিকার প্রয়োগ হয়েছে দাবি করে কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন ডাক্তার আলেকজান্ডার।
কিন্তু বিশ্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত মেডিক্যাল জার্নাল ‘‌‌দ্য ল্যান্সেট’ টিকার পক্ষে অনুকূল মত দেয়। 
বলা হয়েছিল, তৃতীয় পর্বে ৪০ হাজার জনের শরীরে টিকা প্রয়োগ করে তাঁদের নিজেদের এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই পর্বটি আগের দুটি পর্বের চেয়ে দীর্ঘ। 
‘‌স্পুটনিক–‌ভি’‌ টিকার প্রথম দুই পর্বের ট্রায়ালের খুঁটিনাটি তথ্য ভারতে পাঠিয়েছিল গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
ভারত আগেই জানিয়েছিল, রুশ টিকার ট্রায়ালের প্রতিটা পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এই টিকা কার্যকর প্রমাণিত হলে তবেই ভারতে তার উৎপাদন ও ট্রায়ালের কথা ভাবা যাবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ বায়োটেকনোলজি দপ্তরের সচিব রেণু স্বরূপ ও রাশিয়ায় ভারতের দূত ডি বি বেঙ্কটেশ বর্মার মধ্যে রুশ টিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এখন এর পরের দফার ট্রায়ালে সামনে আসা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি কীভাবে সামাল দেয় রাশিয়া, আর ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় থাকা বিভিন্ন দেশের মানুষ কীভাবে তা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top