সংবাদ সংস্থা
সেই ট্র্যাডিশনই বজায় থাকল। ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের ৮০০০ পাউন্ডের অর্থমূল্যের একটা বড় অংশ খরচ হয়েছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের পত্তন করে যাওয়া শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে। ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের তিন প্রাপকের সম্মিলিত ৯,১৬,০০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬.‌৫ কোটি টাকাও খরচ হবে শিক্ষার প্রসারে। অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, এস্থার দুফলো এবং মিশায়েল ক্রেমার, তিন জনেই তঁাদের ভাগের অর্থ দান করেছেন ওয়াইস ফান্ড–এ। যে তহবিল থেকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে গবেষণার কাজে অনুদান দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধেয় সুইডেনের স্টকহলম শহরের কনসার্ট হলের ঐতিহাসিক বল রুম, বা গোল্ডেন হল–এ আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা তাই বুঝি একটু বেশিই হাততালি দিলেন অভিজিৎ, এস্থার এবং মিশায়েলের সম্মানে। রীতিমাফিক অতিথি–আসনের একেবারে সামনের সারিতে বসেছিলেন ওঁরা। আর সামনে নিচু মঞ্চের ওপর সুইডেনের রাজা–রানি, নোবেল কমিটির কর্তাব্যক্তিরা। চিরাচরিত প্রথা মেনে নীল মখমলে মোড়া সোনালি কারুকাজ করা চেয়ারের একটি খালি রাখা ছিল, প্রয়াত আলফ্রেড নোবেলের প্রতি সম্মানে। নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানে সাদা বো–টাই, কালো টেইল কোট পরাটাও প্রথা। কিন্তু পোশাকি বাধ্যতা থেকে ছাড় পান পুরস্কার প্রাপকরা। সেই সুযোগ নিয়ে অভিজিৎ পরলেন স্বদেশী কুর্তা, নেহরু জ্যাকেট। আর ফরাসিনী এস্থার শাড়িতে হয়ে উঠেছিলেন নয়নাভিরাম বাঙালিনী। প্রথামাফিক নোবেল কমিটির চেয়ারম্যানের স্বাগতিক ভাষণের পর সুইডেনের রাজা–রানির হাত থেকে একে একে নোবেল পদক এবং মানপত্র হাত পেতে নিলেন ওঁরা। তার পরের গন্তব্য একতলার ‘‌ব্লু রুম’, যেখানে যথানিয়মে বসল নোবেল প্রাপকদের সম্মানে নৈশভোজের আসর। হলঘরের মাঝে ‘‌টেবল অফ অনার’‌–এ যথারীতি রাজা–রানি এবং অভিজিৎ–এস্থার–মিশায়েল, এদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যমণিরা।‌      

জনপ্রিয়

Back To Top