সমীর দে
এক কিলো পেঁয়াজের দাম ৩০০ ছুঁতে চলেছে!‌ শনিবার ঢাকা–সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কেজি প্রতি ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোজই দাম চড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগের যে, বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পেঁয়াজ নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। শনিবার এক অনুষ্ঠানে হাসিনা বলেছেন, ‘পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সমাধানে কার্গো বিমান ভাড়া করে আমরা পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে বিমানে পেঁয়াজ এসে পৌঁছাবে। পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, কাজেই আর চিন্তা নাই।’
শনিবার ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ১৫ দিন আগেও পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এই চিত্র শুধু ঢাকার না, গোটা দেশের। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে পেঁয়াজ নিয়ে ট্রল করছেন। মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
পেঁয়াজ নিয়ে সঙ্কটের কথা জানালেন আমদানিকারক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসছে খুবই কম। মায়ানমারেও পেঁয়াজ নেই। সেখান থেকে যে পেঁয়াজ আসছে, বেশিরভাগই পচা। দামও বেশি। তিনি বলেন, শুধু ঢাকায় প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা ৬ হাজার টনের বেশি। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টনে কীভাবে চাহিদা মিটবে? তাই দাম বাড়ছে।
এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি। যা অস্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস ট্রিজ–‌এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের গড় পাইকারি মূল্য ৬৮ সেন্ট যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ টাকা। অথচ বাংলাদেশে ২৬০ টাকা। ভারতে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬২ সেন্ট, চীনে ২৮ সেন্ট, পাকিস্তানে ৩৯ সেন্ট ও মিশরে ১৭ সেন্ট কেজি দরে।
চলতি বছর উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে বাজারে পেঁয়াজ এসেছে ২৯ লাখ টনের বেশি। অথচ চাহিদা ২৪ লক্ষ টন। তাহলে লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন? সূত্র জানিয়েছে, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কারসাজি করে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। মিশর থেকে কার্গো বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে মঙ্গলবার। 

জনপ্রিয়

Back To Top