সংবাদ সংস্থা
রাষ্ট্রপুঞ্জ, ৪ জুলাই

শুরু হয়েছিল এ বছরের গোড়ায়। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল ২০২০ সালের অর্ধেক। তবু করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই মিলছে না বিশ্বের। কিছু দেশে প্রথম দফার সংক্রমণে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কোথাও আবার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে নতুন এলাকায়। এরই মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণ ছড়ালে আরও ধসে পড়বে অর্থনীতি। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার থেকে উবে যাবে আরও ৩৪ কোটি পূর্ণ সময়ের কাজ। বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় তলিয়ে যাবে। আরও অনেক মানুষ কাজ হারিয়ে চরম বিপদের মধ্যে পড়বেন। এই রকম একটা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় রাষ্ট্রের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আইএলও–‌র ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার। আইএলও জানাচ্ছে, ২০১৯–‌এর শেষ ত্রৈমাসিকের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পূর্ণ সময়ের কাজ কমেছে ১৫ কোটি ৫০ লক্ষ। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে উবে গেছে ৪০ কোটি পূর্ণ সময়ের কাজ। ফলে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ না হয় এবং সরকারগুলি যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তা হলেও এই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব–‌অর্থনীতিকে কোনও ভাবেই অতিমারী শুরুর আগের পর্বে ফেরানো যাবে না। যদি লকডাউন ওঠে, বিনিয়োগ ও ভোগ দুটোই বাড়ে এবং রাষ্ট্রের তরফে সদর্থক নীতি নেওয়া হয়, তা হলেও সঙ্কট পুরোপুরি কাটবে না। এর ওপর দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণ হলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। আইএলও–‌র ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণ যদি না আসে, তা হলেও আগামী ৬ মাসে কাজের বাজারের হতশ্রী দশা কাটবে না। এর মানে, অর্থনীতি খুব সহজে চাঙ্গা হয়ে করোনার আগের পর্বে ফিরবে না।’ তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বের অনেক এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে উন্নয়নশীল অর্থনীতির। আবার এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজের ঘণ্টা নষ্ট হয়েছে আমেরিকায়। লকডাউনে কোনও না কোনও ভাবে কাজের জায়গা বন্ধ হয়েছে বিশ্বের ৯৩% কর্মীর। এই সঙ্কটে মেয়েরা কাজ হারিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব জুড়ে হোটেল, খাদ্য, বিক্রি ও ম্যানুফ্যাকচারিং— এই চারটি ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলার সংখ্যা ৫১ কোটি। এঁরা বিশ্বের মোট মহিলা কর্মীদের ৪০ শতাংশ। গৃহস্থালির কাজ, সামাজিক পরিষেবা ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে। লকডাউনে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল ও কেয়ার সেন্টারগুলি। ফলে কাজের বাজারে বেশি ক্ষতি সইতে হয়েছে মহিলাদের। রাইডারের মতে, এখন শ্রমের বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ হল স্থিতাবস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে কর্মীদের আয়, স্বাস্থ্যরক্ষা, সামাজিক পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারসাম্য ফেরানো। এ কাজে রাষ্ট্রকে আরও বেশি হস্তক্ষেপ করতে হবে। এখন েয–‌সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। এমনকী তার প্রভাব থাকবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top