সংবাদ সংস্থা
বিদেশে পড়াশোনা। আকর্ষণীয় কেরিয়ার। অনেক পড়ুয়ারই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের টানে ফি–বছর ভারতের অসংখ্য পড়ুয়া পাড়ি দেন বিদেশে। এখন তাঁদের সেই স্বপ্নের অন্তরায় হয়ে উঠল করোনা ভাইরাস। কবে কাবু করা যাবে করোনাকে, উত্তর অজানা। উচ্চশিক্ষার জন্য যাঁরা বিদেশে যাওয়ার তোড়জোড় করেছিলেন, তাঁরা হতাশ। ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম ভাবনাচিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের কথায় আক্ষেপ ঝরে পড়ছে।‌‌ 
২১ বছরের তৃপ্তা লুথরা স্নাতক স্তরের পড়ুয়া। অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় মাস্টার্স করতে চান। স্থির করেছিলেন এখানকার পড়ার পাট শেষ হলেই অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেবেন। তাই ভারতের কোনও কলেজে ভর্তির আবেদনও করেননি। এখন টিভির পর্দায় চোখ রাখলেই সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে সময় থমকে গেছে। কিছু ভাবতেই পারছেন না। লকডাউন, আর্থিক মন্দা— সব মিলিয়ে স্বপ্নগুলো যেন ধূসর হয়ে যাচ্ছে তাঁর কাছে।
অনুষ্কা রায়ের মনের অবস্থাও একই রকম। লিবারেল আর্টস নিয়ে পড়াশোনার জন্য নিউ ইয়র্ক যেতে চান তিনি। যাওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরেই। করোনার ধাক্কায় তা সম্ভব নয়। বিকল্প কোনও ভাবনাচিন্তাও করেননি। তাঁর কথায়, ‘‌বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা অনেকদিন ধরে করতে হয়। টাকাও লাগে। এটা মানসিক ব্যাপারও বটে। এখনকার পরিস্থিতির জন্য পুরো জীবনের পরিকল্পনা বদলে ফেলা ঠিক নয়। এবার সম্ভব না হলে পরের বার যাব। আগামী বছর আবার ভর্তি হওয়া যায় কি না দেখব।’‌
এদিকে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্নে বিভোর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তারা ওসান। কানাডা বা ইতালিতে গিয়ে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে তার। কিন্তু বাস্তবকে এড়িয়ে যাচ্ছে না তারা। মনে করছে, চলতি বছরে বিদেশযাত্রা সম্ভব না–ও হতে পারে। তা বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। স্থির করেছে, দেশের কোনও কলেজেই ভর্তি হবে।
বিদেশে পঠনপাঠনের ব্যাপারে সাহায্য করে যে সব সংস্থা, তারাও চিন্তিত। দিল্লির এমনই একটি সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা অস্পষ্ট। অনলাইনে পড়াশোনা হচ্ছে। ফলে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন, তাঁরা অনেকেই নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছেন। যাঁরা একান্তই বিদেশে যেতে চান, তাঁরা মোটা টাকা দিয়ে অনলাইনে ক্লাস করছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top