আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীন সরকার থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সেখানে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠন বা হু–এর অফিস থেকেই সদর দপ্তরকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল। এমনটাই জানিয়েছে হু। তবে সেসময় উহানে নিউমোনিয়া সংক্রমণের খবর দেওয়া হয়েছিল।
গত ৯ এপ্রিল হু একটা প্রাথমিক রূপরেখা প্রকাশ করেছিল হু। সেখানে হু বলেছিল, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯–এ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান মিউনিসিপ্যাল হেল্থ কমিশনে নিউমোনিয়া রোগ ছড়ানোর কথা রিপোর্ট হয়েছিল। তবে সেই নোটিস কে দিয়েছিল সেকথা উল্লেখ করেনি হু। তারপর হু–এর ডিরেক্টর টেড্রস অ্যাঢানম ঘেব্রেইসাস ২০ এপ্রিল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রথম রিপোর্ট করা হয়েছিল চীন থেকে। তবে সেই রিপোর্ট চীন প্রশাসনই করেছিল নাকি অন্য কোনও সূত্রে পাওয়া গিয়এছিল সেকথা উল্লেখ করেছিল না হু।
কিন্তু চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত বিস্তারিত নতুন রূপরেখায় হু–এর ইঙ্গিত, এই ইস্যুতে উহান হেল্থ কমিশনের ওয়েবসাইটে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্য দেখেই চীনে অবস্থিত হু–এর অফিস গত ৩১ ডিসেম্বর জানিয়েছিল যে, উহানে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরই হু–এর মহামারী তথ্য পরিষেবা আরেকটি খবর পায় যে, উহানে অজানা কারণে নিউমোনিয়া ছড়াচ্ছে। এই নতুন তথ্যটি হু–কে দিয়েছিল আমেরিকার সংস্থা ‘‌প্রোমেড’‌, যারা     আন্তর্জাতিক মহামারী নিয়ে চর্চা করে।
তারপর গত পয়লা এবং দোসরা জানুয়ারি হু চীন প্রশাসনকে বলেছিল, ওই ব্যাপারে তথ্য দিতে। যা চারা হু–কে দেয় গত তেসরা জানুয়ারি। হু–এর ইমার্জেন্সি ডিরেক্টর মাইকেল রায়ান গত শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, কোনও সংস্থার দেওয়া তথ্য থেকে কোনও ঘটনা সম্পর্কে এবং তার প্রকৃতি পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে দেশগুলির ২৪–৪৮ ঘণ্টা লাগে। সেভাবেই যখন হু চীন প্রশাসনকে নিউমোনিয়া সংক্রমণের রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে বলেছিল, সেটা করেই হু–এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল চীন।           
বিশ্বকে কোভিড মহামারীর কবলে চলে যেতে দেওয়ার জন্য প্রথম থেকেই চীনের সঙ্গে হু–কেও দোষারোপ করে আসছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার অভিযোগ করেন, আগে থেকে টের পেয়েও বিশ্বকে সেভাবে সাবধান করেনি হু। এমনকি চীনের প্রতিও নরম মনোভাব দেখিয়েছে তারা। এজন্য হু–কে আমেরিকার তরফে অনুদান বন্ধের ঘোষণাও করেছেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের সব অভিযোগই অস্বীকার করেছিল হু।   

জনপ্রিয়

Back To Top