আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাগ্রত আগ্নেয়গিরিতে পর্যটনের অনুমতি দেওয়া নিয়ে এখন সারা বিশ্বে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। হোয়াইট আইল্যান্ডের ওই জাগ্রত আগ্নেয়গিরি সেদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক মুহূর্ত আগের ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতেও দেখা যাচ্ছে, আগ্নেয়গিরির গহ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একদল পর্যটক। অথচ তখন সেখান দিয়ে নাগাড়ে নির্গত হচ্ছিল ঘন সাদা ধোঁয়া। সোমবারের অগ্ন্যুৎপাতের সময় ওই দ্বীপে ছিলেন ৪৭ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও নিখোঁজ আটজন। তাঁদের সন্ধান চললেও সবার মৃত্যু হয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমন নিউজিল্যান্ড পুলিসের। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে প্রথমে সাংবাদিক সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড পুলিসের ডেপুটি কমিশনার জন টিমস্‌ ঘোষণা করেন অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত করবে পুলিস। তার ঠিক দুঘণ্টা পর পুলিস দপ্তর থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয় করোনারের নির্দেশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পর্যটকদের মৃত্যু এবং জখম হওয়া নিয়ে তদন্ত হলেও এখনই ফৌজদারি তদন্ত হবে না।


মৃতদের মধ্যে একজন ওই দ্বীপের অন্যতম পর্যটন কোম্পানি হোয়াইট আইল্যান্ড টুরের গাইড মার্শাল ইনম্যান। তাঁর ভাই দাদার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। আরেকজন মালয়েশিয়ার নাগররিক বলে শনাক্ত করা গেলেও তাঁর পরিচয় মেলেনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখম ৩১ জনের মধ্যে ২৭ জনের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁদের সবার বয়স ১৩ থেকে ৭২ বছরের মধ্যে। পর্যটকরা সবাই আমেরিকা, ইংল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া এবং স্থানীয় নাগরিক। একথা জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বলেছেন, উদ্ধারকাজই প্রথমে জরুরি। তারপর বিপর্যয় নিয়ে তদন্ত হবে। হোয়াইট আইল্যান্ডে এখনও চলছে অগ্ন্যুৎপাত। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় প্যারামেডিক রাসেল ক্লার্ক বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি তাঁকে রাশিয়ার চেরনোবিলের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
ছবি:‌ বিজনেজ ইনসাইডার, এএ.‌কম.‌টিআর         ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top