আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌  জারি কার্ফু। খোদ প্রেসিডেন্ট সেনা নামানোর হুমকি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও আরও তীব্রতর হচ্ছে ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন। লস অ্যাঞ্জেলস থেকে নিউইয়র্ক। সর্বত্র কার্ফু অগ্রাহ্য করে পথে নামলেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ–জনতা সংঘর্ষ হতেও দেখা গেল। তবে হিংসা এবং লুটের ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। 
হিউস্টনে এদিন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান জর্জ ফ্লয়েডকে। মেয়র সিলভেস্টর টার্নার নিজের বক্তব্যও রাখেন সেখানে। এদিকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার এক সপ্তাহের জন্য কার্ফু জারি করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে থাকার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাত ৮টা পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ রাস্তায় ছিলেন। বারেবারে স্লোগান দিচ্ছিলেন। ম্যানহাটন এবং ব্রুকলিনে বেরোয় শান্তিপূর্ণ পদযাত্রাও। পাশাপাশি, ফ্লয়েডের মৃত্যুতে মিনেসোটা প্রশাসনের মানবাধিকার দপ্তরের তরফে মিনিয়াপোলিস পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জলসে দেখা গেল আরেক চিত্র। অ্যাফ্রো–আমেরিকান ক্রিশ্চিয়ান গ্রুপের মিছিলের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে জর্জ ফ্লয়েডকে মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন মেয়র এরিক গারসেট্টি–সহ পুলিশ আধিকারিকরা। মেয়র বলেন, কেবলমাত্র কালো রংয়ের জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। তাঁকে গৃহহীন, অসুস্থ হতে দেওয়া উচিত নয়। তাঁরও চাকরি, শিক্ষা–সহ সমস্ত অধিকার রয়েছে। এছাড়া ওয়াশিংটন–সহ আমেরিকার বহু শহর সাক্ষী ছিল প্রতিবাদ মিছিলের। তাঁদের বক্তব্য একটাই #blacklivesmatter‌।
এদিকে, ভারত–চীন সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শুধু সীমান্ত উত্তেজনাই নয়, আমেরিকায় পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর কারণে তৈরি হওয়া অশান্তি, করোনা পরিস্থিতি–সহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলা আগামী জি–৭ সম্মেলন যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এদিন আমন্ত্রণও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ‘‌জি–৭–এ সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাতে ভারত–সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশকে এই সম্মেলনের অন্তভুর্ক্ত করা যায়।’‌ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকায় চলা অশান্তি নিয়ে এদিন টেলিফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে আমেরিকা দ্রুত এর সমাধান বের করে ফেলবে বলে আশা প্রকাশও করেছেন। তবে মনে ক‌রা হচ্ছে, মূল আলোচনাই ছিল চীনের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে। 

জনপ্রিয়

Back To Top