আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাছ–বিচারের বালাই নেই!‌ টিকা তৈরির দৌড়ে সব ‘‌ঘোড়া’‌য় বাজি ধরেছেন ট্রাম্প। দাবার গুটি এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে, টিকা তৈরি হলেই যেন সবার আগে তাঁর ঘরেই ঢোকে!‌ কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়েই বায়োটেক সংস্থা মডার্নার সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তি সেরে ফেললেন তিনি। প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে এই মার্কিনি সংস্থা। সম্প্রতি মডার্নার তৈরি টিকার ১০ কোটি ডোজের জন্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর আগেও এই বায়োটেক সংস্থায় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা ঢেলেছে ‌ট্রাম্প সরকার। মডার্নার সম্ভাব্য টিকার একটি বিশেষত্ব রয়েছে। নয়া প্রযুক্তিতে কৃত্রিম এমআরএনএ দিয়ে টিকা তৈরি করছে তারা। এমআরএনএ হল এক ধরনের জেনেটিক কোড, যার নির্দেশে কোষগুলি প্রোটিন তৈরি করে, যেগুলি কিনা আবার করোনার জীবাণুর প্রোটিনের মতোই দেখতে। করোনার জীবাণুদের খুঁজে বার করে তাদের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এই এমআরএনএ। হিউম্যান ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে ওই টিকা। আগামী বছরের শুরুতেই তা বাজারে চলে আসবে, দাবি সংস্থার। শোনা গেছে, মডার্নার সঙ্গে চুক্তিতে ট্রাম্পের কিছু ‘‌অঘোষিত দাবিদাওয়া’–ও আছে। প্রয়োজনে আরও ৪০ কোটি ডোজ কেনার সুযোগ যাতে থাকে ট্রাম্পের হাতে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব বাজারে আনতে হবে টিকা। নির্বাচনকে সামনে রেখেই হয়ত এই দাবি করেছেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের। 
করোনা রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ মার্কিন প্রশাসন। তাই গাঁটের কড়ি খরচ করেই মোকাবিলার পন্থা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘‌অপারেশন র‌্যাপ স্পিড’ অভিযানও শুরু হয়েছে। দেশের ৩৩ কোটি মানুষের জন্য প্রায় ৮০ কোটি ডোজের চুক্তি করেছে মার্কিন সরকার। মডার্নার পাশাপাশি অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিনের ৩০ কোটি ডোজের জন্য প্রায় ৯ হাজার কোটির চুক্তি হয়েছে। এছাড়াও নোভাভ্যাক্স, স্যানোফি এবং গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, জনসন অ্যান্ড জনসন, ফাইজার এবং বায়োএনটেক সংস্থার সঙ্গেও চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‌প্রায় ৪০ কোটি ডোজের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ করছেন ট্রাম্প। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top