আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হংকং–এর ওপর চীনের চোখরাঙানির বিরুদ্ধে এবার সরব ব্রিটেন। সম্প্রতি চীনের পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে হংকং জাতীয় নিরাপত্তা বিল। তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা হংকং। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, হংকং–এর স্বায়ত্বশাসন, মৌলিক স্বার্থ ও স্বাধীনতায় শেষ পেরেকটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করছে বেজিং। এই পরিস্থিতিতে হংকং–বাসীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, ‘‌আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্র হংকংয়ের ওপর বেজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লন্ডন উদ্বিগ্ন। এই সময়ে লন্ডন হংকংবাসীদের থেকে দূরে সরে যাবে না। চীন যদি জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে, তবে কয়েক লাখ হংকংবাসীর জন্য ভিসার ব্যবস্থা করবে ব্রিটেন। প্রয়োজনে নাগরিকত্ব দিতেও তৈরি আমরা।’ হংকং–এর ওপর চীনের ‘‌আধিপত্য বিস্তার’‌–এর নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলে আইনটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ‌ডমিনিক রাব। ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়ার পরই মুখ খোলে চীন। ব্রিটেনে চীনের রাষ্ট্রদূত লিউ জায়োমিং বলেন, ‘চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে দূরে থাকুক ব্রিটেনের নেতারা।’‌ দীর্ঘ দিন ধরেই ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল হংকং। দু’দশক আগে অবশ্য চিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়। তবে চিনের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে আরও উচ্চতর গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে হংকংয়ের। যে কারণে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছেন হংকংবাসী। 
চীনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি চীনা কোম্পানি হুয়েই নেটওয়ার্ক কোম্পানির সঙ্গেও দূরত্ব বাড়াচ্ছে ব্রিটেন। ব্রিটেনে ৫জি নেটওয়ার্কের পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই চীনা কোম্পানিকে। এই কারণে ব্রিটেনের ওপর বেজায় চটে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার চীনের ‘‌আগ্রাসন ও আধিপত্য নীতি’‌র বিরোধিতা করে চীনের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করায় চেষ্টায় আছে ব্রিটেন। চীনকে একঘরে করে দেওয়ায় মদত দিচ্ছে মার্কিন মুলুক। জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

জনপ্রিয়

Back To Top