‌সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: কাশ্মীরের ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ পরিস্থিতি সামলাতে মঙ্গলবার ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে সহযোগিতা করতে পারলে খুশি হবেন তিনি। কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‌কাশ্মীর খুব জটিল জায়গা। সেখানে হিন্দু আছে, মুসলিম আছে। আমি বলতে পারি না তারা এক সঙ্গে খুব ভাল আছে। মধ্যস্থতার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’‌
ধর্মই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রধান বাধা বলে মনে করেন ট্রাম্প। এই তিক্ত সম্পর্ক সহজ করতে ইচ্ছুক আমেরিকা। ট্রাম্পের কথায়, ‘‌দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে। শান্তিতে থাকতে পারছে না তারা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমাদের সাহায্য করা উচিত বলেই মনে হয়। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে এই মুহূর্তে ওই দুই দেশ একে–‌অপরের বন্ধু বলে মনে হচ্ছে না। আর এই সম্পর্কে বাধ সাধছে ধর্ম। ধর্ম খুব জটিল বিষয়। ধর্মের এই বিষয়টিকেই আগে ঠিক করা প্রয়োজন।’‌ 
এর আগেও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে দাবি করেছিলেন, কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার মধ্যস্থতা চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভারত জানায়, কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনও মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। তার পরেও কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্প মধ্যস্থতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এদিন আবারও তিনি সেই ইচ্ছাই প্রকাশ করলেন। 
সোমবারই কাশ্মীর নিয়ে ভারত–‌পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প। দু’দেশকেই সংযত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ৩০ মিনিট কথা বলেন মোদির সঙ্গে। ট্রাম্পকে মোদি জানান, কাশ্মীর নিয়ে অহেতুক উত্তেজনা ছড়াচ্ছে পাকিস্তান। ভারত–‌বিরোধী কথাবার্তা বলছে তারা। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির আবহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মোদির সঙ্গে কথা হওয়ার পরই ইমরান খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। ইমরান ভারতের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ তোলেন কাশ্মীর নিয়ে। কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। উল্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরেই তাঁকে সংযত থাকার পরামর্শ দেন।
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। হতাশ হতে হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই জানিয়ে দেয় নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। চীন ছাড়া এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের প্রায় কাউকেই পাশে পায়নি ইসলামাবাদ। নিরাপত্তা পরিষদে ধাক্কা খেয়ে এবার কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। পাল্টা রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত ভারতের প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেছেন, ‘‌নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক দেশেরই রয়েছে। এ বিষয়ে অন্য ভাবনাচিন্তা রয়েছে আমাদেরও। ওরা যদি অন্য মঞ্চ থেকে আমাদের সঙ্গে লড়তে চায়, আমরা সেখানে দাঁড়িয়েই ওদের মোকাবিলা করব। এটা ওদের পছন্দের জায়গা। একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে ওরা।’‌
ট্রাম্প ছাড়াও টেলিফোনে কাশ্মীর নিয়ে মঙ্গলবার মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। কাশ্মীর সমস্যাকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে উল্লেখ করেন জনসন। জনসন বলেছেন,‘‌কাশ্মীর সমস্যাকে ভারত–পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেব দেখে গ্রেট ব্রিটেন। আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে ভারত–পাকিস্তানকে।’‌‌‌‌‌‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top