সংবাদ সংস্থা, নিউ ইয়র্ক: করোনা‌–‌হামলায় সারা আমেরিকাই কমবেশি পর্যুদস্ত, কিন্তু নিউ ইয়র্ক ক্ষতবিক্ষত!‌ নিউ ইয়র্ক শহরে প্রতি হাজার জনের ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত। আর গোটা নিউ ইয়র্ক প্রদেশে হিসেবটা হাজারে সাত জন। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে একদিনে সবথেকে বেশি মৃত্যু ঘটেছে করোনায়। ৭৩১ জন। সারা দেশে ১২,৮৫০ জন মারা গেছেন, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ। তার পরেও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান ডাঃ অ্যান্টনি ফৌচি জোর দিয়ে বলেছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আমেরিকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে!‌ ঠিক যেভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কদিন আগেও সমানে বলে গেছেন, খুব শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে!‌ ট্রাম্প এখনও কার্যত ‘‌ভাঙব, তবু মচকাব না’‌ নীতি নিয়ে চলেছেন। রীতিমতো খেপে যাচ্ছেন, যে দেশের করোনা–‌পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে যা বলছেন, তথ্য–পরিসংখ্যান দিয়ে কেন সেই বক্তব্যকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে!‌ তিনি এখনও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যকে সমানে অগ্রাহ্য করছেন, রীতিমতো হেয় করছেন সমস্ত ধারণা, যা তঁার সরকারি ভাষ্যের সঙ্গে মিলছে না। সোমবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক সাংবাদিক করোনা–‌পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তঁাকে প্রশ্ন করেছিলেন। ট্রাম্প কোনও জবাব তো দেনইনি, উল্টে সাংবাদিক সম্মেলনের বাকি সময় পাল্টা খেঁাচা মেরে গেছেন। আমেরিকার এক প্রথম সারির স্বাস্থ্য সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ দপ্তর দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। সেটিকে ‘‌রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’‌ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী দেশের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান, যিনি নিজেও এই ধরনের রোগের একজন বিশেষজ্ঞ, সেই অ্যান্টনি ফৌচি–কে আগের দিন মুখই খুলতে দেননি ট্রাম্প, পাছে তিনি সরকারি ভাষ্যের বাইরে গিয়ে বেফঁাস কিছু বলে বসেন। উল্টে ট্রাম্পের এক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো ফৌচির সঙ্গে প্রকাশ্যে তর্ক জুড়ে দিয়েছিলেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে। যদিও এই তর্ক তোলার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে যে ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা দরকার, সেটা তঁার নেই। তবু নাভারো নিজেকে ট্রাম্পের যোগ্য পার্ষদ প্রমাণ করেছেন। বলেছেন, ‘‌আমি যদিও ডাক্তার নই, কিন্তু আমার একটা পিএইচডি আছে। সেই হিসেবে আমি বিজ্ঞানী না হয়েও নিজেকে সমাজবিজ্ঞানী দাবি করতেই পারি‌!’‌‌
এই পরিস্থিতিতে সামান্য আশার কথা শুনিয়েছেন নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো। গোটা প্রদেশে ৫৪৮৯ জন মারা গেছেন করোনায়, তার মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭৩১ জন। নিউ ইয়র্ক শহরে মৃতের সংখ্যা ৩২০০ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই ২৪ ঘণ্টায় আইসিইউ–তে রোগী ভর্তির সংখ্যা, ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নিতে হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং সামগ্রিকভাবে সংক্রামিতের সংখ্যার দৈনিক হার আগের থেকে বাড়েনি। মঙ্গলবার এই হিসেব দেওয়ার সময় গভর্নর কুয়োমো বলেছেন, ‘‌কিন্তু মনে রাখতে হবে, এক দিনে হারানো ওই ৭৩১টি প্রাণের পিছনে আছে একজন করে মানুষ, একটি পরিবার। একজন মা, একজন বাবা, বোন, ভাই। কাজেই নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্যে এ বড় যন্ত্রণার সময়।’‌ হোয়াইট হাউসের করোনা বিষয়ক কমিটির সমন্বয়কারী ডাঃ ডেবোরা বির্ক্স এদিন বলেন, নিউ ইয়র্ক প্রদেশ এখনও করোনা সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। তার বাইরে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক থাকলেও সংক্রমণের হার কমছে। 
ওদিকে ইওরোপে ইতালি, স্পেনের পর করোনা সংক্রমণের ভরকেন্দ্র সরে গেল ফ্রান্সে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেদেশে ১,৪১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০,৩০০। এর মধ্যে ৩,২৩৭ জন মারা গিয়েছেন বিভিন্ন বৃদ্ধাবাসে। বুধবার ফ্রান্সে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭০ জন। ১৭ মার্চ থেকে ফ্রান্স লকডাউনে। তার পরও এই সংক্রমণ হার!‌

জনপ্রিয়

Back To Top