আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ এর একেবারে গোড়ায় চীন থেকে খবর আসতে শুরু করল কিছু কিছু লোক অদ্ভুত অজানা একধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। জটিল সংক্রমণ হচ্ছে ফুসফুসে। হাজার হাজার মাইল দূরে জার্মানির বার্লিনে বিজ্ঞানী ওলফার্ট লান্ট তখন একটি টেস্ট কিট বানাতে ব্যস্ত, যিনি অজানা সার্সের মতো অসুখ নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন গত তিরিশ বছর ধরে। ভাইরলজিস্টরা সাধারণত নতুন ভাইরাসের জেনেটিক চরিত্রের ক্রমপর্যায় জানার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু লান্ট এক্ষেত্রে সেটা করেননি। স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের সাহায্য নিয়ে তিনটি কিট অতি তাড়াতাড়ি তৈরি করে ফেলেন। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি এই কিটগুলি তাইওয়ান আর হংকং-এর দুটি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেন। তারপরে একটি ম্যানুয়াল তৈরি করে ইমেল করে বলেন ‘টেস্ট ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে দিন, ওঁরা রোগীদের পরীক্ষা করুন।’ তার কয়েকদিন পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও লান্টের ওই প্রোটোকল অনলাইনে প্রকাশ করে দেয়। লান্টের হিসেব অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত উনি ৪০ লক্ষ কিট বানিয়েছেন, তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ লক্ষ করে। একটি কিটে ১০০ টি পরীক্ষা করা যায়, উনি এই কিটগুলো সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের সর্বত্র কার্যত কোনও লাভ না রেখেই বিক্রি করেছেন। লান্ট সিকোয়েন্সের জন্য না করলেও হংকং-এর ভাইরোলজিস্ট লিও পুন কিন্তু আরও খানিকটা অপেক্ষা করে মোটামুটি কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই এই টেস্টকিট তৈরি করেছেন। তিনি গত দু মাসে ৪০ এরও বেশি দেশে খুবই সস্তায় এই টেস্টকিট পাঠানোর ব্যাবস্থা করেছেন। ইতিমধ্যে হু শুধু এই টেস্টকিটের প্রোটোকল অনলাইনে প্রকাশই করেনি, হু-এর কর্তারা বারংবার বলেছেন নভেল করোনা ভাইরাসের এই আক্রমণ রোখার সবচেয়ে বড় উপায় ‘পরীক্ষা পরীক্ষা এবং পরীক্ষা’। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যাচ্ছে পৃথিবীর বহু দেশ এই টেস্টকিট তৈরি করার বিষয়ে খুব এগোতে পারেনি। এই বিষয়ে ঢিলেমির জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে ব্রিটেন আর আমেরিকাই। কিন্তু লান্ট, পুনদের উদ্যোগ থাকলেও কেন এই হাল! অনেক দেশের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে তারা ওঁদের পদ্ধতি গ্রহণ করবেন না নিজেরাই কিট তৈরি করবেন। এই দ্বিধা ছাড়াও আরও কতগুলো কারণ আছে , অনেকক্ষেত্রে একটি দেশের বিজ্ঞানীরা হয়তো নিশ্চিত হতে পারছেন না, যে তাঁদের টেস্ট সফল হবেই। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য-চরিত্রের ফারাকের কারণে একটি দেশের কিট অন্য জায়গায় কাজ নাও করতে পারে। তাছাড়া এই ভাইরাস হঠাৎ ‘মিউটেট’ করে যেতে পারে, এবং সেই চরিত্র বদলের জন্য আগের কিটটি পরে কাজ নাও করতে পারে। কিছু দেশের এ বিষয়ে পিছিয়ে থাকার আরেকটি কারণ অল্প প্রশিক্ষিত কর্মী, পরিকাঠামোর ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। কিন্তু কোভিড-১৯ চীনের পরে ইরান ইতালি বা স্পেনের মতো দেশকে যে ভাবে ছারখার করছে, গোটা বিশ্বকে কার্যত গ্রাস করছে তাতে এ বিষয়ে কোনওরকম গা ছাড়া মনোভাবের আর জায়গা নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top