আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সঙ্গিনী অপছন্দ হলে তাকে খুনের কথা প্রায়ই শোনা যায় মানব সমাজে। প্রাণীজগতেও এই কথাটা সম্পূর্ণ সত্যি। বিরল প্রজাতির সুমাত্রার বাঘিনীকে প্রথম দেখাতেই অপছন্দ হওয়ায় তাকে মেরে ফেলল বাঘ। ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় শুক্রবার লন্ডনের চিড়িয়াখানা বা জেডএসএল–এ। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, সুমাত্রার বাঘিনী, ১০ বছরের মেলাতি দীর্ঘ দিন ধরেই জেডএসএল–এর বাসিন্দা। তার আগের সঙ্গী জে–জে–কে গত ৩০ জানুয়ারি ফ্রান্স পাঠায় জেডএসএল। তার জায়গায় দিন দশেক আগে ডেনমার্কের সাফারি পার্ক থেকে অসীম নামে সাত বছরের আনা হয় বন্দি অবস্থায় প্রজনন প্রকল্পের আওতায়। জে–জে এবং মেলাতির সাতটি শাবক হয়েছিল। নিজের সঙ্গিনীদের প্রতি যত্নবান বলে সুখ্যাতি ছিল অসীমের।
প্রথমে কয়েক দিন পৃথক খাঁচায় রেখে অসীম এবং মেলাতির পরিচয় করানোর পর ব্যাঘ্র বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন এবার দুজনকে এক খাঁচায় রাখা সম্ভব। সেই মতো শুক্রবার মেলাতির খাঁচায় পাঠানো হয় অসীমকে। প্রথমে স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মেলাতিকে আক্রমণ করতে থাকে অসীম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিড়িয়াখানার কর্মীরা খাঁচার ভিতরে ঢোকার আগেই নেতিয়ে পড়ে মেলাতি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি পশু চিকিৎসকরা। অসীমেরও শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে মেলাতির মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মর্মাহত। তবে অসীমের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখাই এখন তাদের অন্যতম কর্তব্য।
সুমাত্রার বাঘের আদি বাড়ি সুমাত্রা এবং ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গল। চোরাশিকারের ফলে প্রায় প্রতিদিনই এদের সংখ্যা কমছে। তাই বন্দি অবস্থাতে প্রজনন করিয়ে এদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়াস চলছে দীর্ঘ দিন ধরেই। বন্দি অবস্থায় সুমাত্রার বাঘ প্রায় ২০ বছর বাঁচতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 
ছবি:‌ বাঁ দিকে মেলাতি, ডান দিকে অসীম  

জনপ্রিয়

Back To Top