আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাস্তায় এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাচের টুকরো। লোহার রড। ইঁট, সিমেন্টের চাঁই। সেই সরিয়েই চলছে উদ্ধার কাজ। বেইরুটের বন্দরে, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, তার আশপাশে বেশ কয়েকটি বহুতল ভেঙে পড়েছে। বহু দূর–দূরান্ত পর্যন্ত বাড়িগুলোর কাচ, ঝুলবারান্দা ভেঙে পড়েছে। 
মঙ্গলবার সন্ধেবেলা যা ঘটে গেল, তা এখনও যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না হাদি নাসরাল্লাহ্‌। এই প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘‌হঠাৎ দেখি আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে। কুণ্ডলি পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে বন্দরের কাছ থেকে। তখনও জানি না বিস্ফোরণ হবে। তার পরই বিকট শব্দ। কিছুক্ষণের জন্য আর কিছুই শুনতে পাইনি। বুঝতে পারলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে।’‌ 
কী হয়েছে, তখনও বোঝেননি নাসরাল্লাহ্‌। বললেন, ‘‌এক জায়গায় বিস্ফোরণ হলে সেখানেই ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাচ ভাঙে। বাড়িঘর পড়ে যায়। কিন্তু এবার যা হল, ফল ভুগল গোটা বেইরুট। এমনকী রাজধানীর আশপাশের এলাকাও।’‌
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সাংবাদিক সুন্নিভা রোজ। বললেন, ‘‌বন্দরে যাওয়ার রাস্তায় তীব্র যানজট। কোনওমতে এগিয়ে দেখি রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে কাচ। ভেঙে পড়েছে বাড়ির থাম, দেওয়াল। অ্যাম্বুল্যান্স যাওয়ার মতোই অবস্থা নেই।’‌ সেই ভগ্নস্তূপ পেরিয়ে বিস্ফোরণস্থলের কাছে গিয়ে রোজ দেখেন, এলাকা ঘিরে রেখেছে সেনা। খবররে অপেক্ষায় সেখানেই বসে পড়েন রোজ। হঠাৎই বুঝতে পারেন, দম আটকে আসছে ধোঁয়ায়। 
সাংবাদিকের কথায়, ‘‌রাত পর্যন্ত বেইরুটের আকাশ ঢেকে রেখেছিল কালো ধোঁয়া। গোটা শহরটাই ছিল কালো। রাস্তায় পড়েছিলেন রক্তাক্ত মানুষ। কেউ নিথর। কারও তখনও প্রাণ রয়েছে দেহে। আমার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে। সেখানেও জানলার কাচ আস্ত নেই।’‌ লেবাননের পশ্চিমে রয়েছে সাইপ্রাস দ্বীপ। সেখানেও বসেও বাসিন্দারা শুনেছেন সেই বিস্ফোরণ। 

জনপ্রিয়

Back To Top