আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগামী সপ্তাহেই বিশ্বের প্রথম করোনা টিকা নিয়ে আসতে চলেছে রাশিয়া। আগামী ১২ আগস্ট টিকাটি নথিভুক্ত করা হবে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং গামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট–এর যৌথ গবেষণায় টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে। এখনও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে কাজ চলছে। টিকা প্রয়োগে শরীরে যাতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি, সংবাদমাধ্যমে জানান গবেষকরা। জানা গেছে, টিকাটি প্রথমে প্রথম চিকিৎসক এবং বয়স্ক মানুষদের শরীরে প্রয়োগ করে দেখা হবে। রেজিস্টেশনের কাজ মিটে গেলে মোট ১৬০০ মানুষের শরীরে ওপর এর পরীক্ষা হবে।
ভ্লাদিমির পুতিন আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যতটা সম্ভব কম সময়ে করোনার ওষুধ ও টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে। এরপর ১৭ জুন ৭৬ জনের ওপর এই টিকা পরীক্ষা করে শুরু হয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী অর্ধেকসংখ্যক মানুষকে দেওয়া ভ্যাকসিনের তরল অংশ দেওয়া হয়। বাকিদের দেওয়া হয় গুঁড়ো বা পাউডার যা কিনা জলে মিশে যেতে পারে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সব স্বেচ্ছাসেবকরা ভাল আছেন, শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়নি। তাই সেপ্টেম্বর থেকেই প্রচুর পরিমাণে এই টিকার উৎপাদন শুরু হবে। 
তবে রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে। সন্দিহান হয়ে পড়ছে বিশেষজ্ঞমহল।  জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরেন্স গোস্টিনও রাশিয়ার এত তাড়াহুড়ো দেখে উদ্বিগ্ন, তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া যেভাবে অল্প সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের ওপর দ্রুত সবকটা পর্যায়ের পরীক্ষা চালিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, এই টিকা শুধু অকার্যকর হবে না, বিপজ্জনকও হবে। হোয়াইট হাউজের করোনা ভাইরাসের বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউচি বলছেন, টিকা তৈরি হয়েছে গেছে বলে দাবি করার আগে ঠিকমতো পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। পরীক্ষা ঠিকমতো না হলে ফল মারাত্মক।
 

জনপ্রিয়

Back To Top