আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে চাঞ্চল্য। পড়শি দেশ পাকিস্তানের ইন্ধনে সন্ত্রাসবাদ বাড়ছে একাধিক দেশে। সে কথা মেনে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিল পাকিস্তানের এই চালাকি রুখে শায়েস্তা করতে পারে একমাত্র ভারত। কারণ, ভারত সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয়। 
মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তান নাকি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয় নেতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে। তার কারণ  ইসলামাবাদ কাবুলে দুর্বল সরকার চায়। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিতে গিয়ে আমেরিকার কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘‌পাকিস্তানের সুরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় আফগানিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী যেমন হাক্কানি নেটওয়ার্ক, এফটিওর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এমনকী আফগান নেতারাও সেদেশে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা বিদ্রোহীদের বাড়বাড়ন্তের পিছনে পাকিস্তানের মদতকেই দায়ী করেছেন।’‌ মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে ‘‌মুখে যতই বলুক। ভিতরে ভিতরে সন্ত্রাসবাদকে ক্রমাগত মদত দিয়েই চলেছে পাকিস্তান।’‌
মার্কিন আধিকারিকরাও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছেন যে আফগানিস্তানের সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এমন সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্তানকেই তাঁদের গোপন নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে বেছে নিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের তরফ থেকে বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
তবে ভারতকে সমঝে চলতে চায় পাকিস্তান। কেননা সিআরএস বলেছে, ‘‌সন্ত্রাসবাদে ক্রমাগত মদত দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। এই বিষয়ে পাকিস্তানকে কৌশলগতভাবে চেপে ধরতে পারে একমাত্র ভারত। আর সেই চাপের আশঙ্কায় পাকিস্তান আবার তালিবানি জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। কারণ তালিবানদের সঙ্গে আফগানিস্তানের তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এটা ঘটনা যে আফগানিস্তানে ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি রয়েছে। তার সঙ্গে আমেরিকার সমর্থন ভয় বাড়িয়ে তুলছে পাকিস্তানিদের। আফগানিস্তানের প্রতি ভারতের আগ্রহ মূলত বেড়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ক্রমাগত আঞ্চলিক বিরোধিতার কারণেই।’ রিপোর্টে এমনই প্রকাশ পেয়েছে। 
সিআরএসে লেখা হয়েছে, বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি ২০১৯ সালে যথেষ্ট মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আফগান সরকার এবং মার্কিন ও আন্তর্জাতিক শক্তির চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে গিয়ে ওই সন্ত্রাসবাদী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি সাময়িকভাবে অনেকটাই নতিস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে, মার্কিন–তালিবান সরাসরি আলোচনার ফলে একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও দেখা গেছে। কেননা এর আগে তালিবানরা কখনই আফগান সরকারের সঙ্গে কোনও রফাসূত্রে যেতে চায়নি।
‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top