সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন: বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাশের পর ভারতের ওপর নজর রাখছে আমেরিকা। শুক্রবার জানিয়েছেন সেদেশের বিদেশ দপ্তরের প্রতিনিধি। বলা হয়েছে, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান ও আইনের চোখে সকলের সঙ্গে সমান আচরণ এটা আমাদের দুই গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি।’‌ এর পাশাপাশি মোদি সরকারকে মার্কিন প্রশাসনের পরামর্শ, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা মনে রেখে সরকারের উচিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা। ক্যাব ইস্যুতে ইতিমধ্যেই তীব্র অশান্তি ছড়িয়েছে অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়–সহ উত্তর–‌পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে। সরাসরি নাম না করলেও ওই সব রাজ্যের পরিস্থিতির কথাই বোঝাতে চেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প সরকারের বিদেশ দপ্তরের এই অবস্থান নিসঃন্দেহে চাপ বাড়াবে মোদি সরকারের ওপর। শুরু থেকেই এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) পর দেশের সংখ্যালঘুদের নিশানা করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনেছে। এবিষয়ে সপ্তাহের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদি–‌অমিত শাহদের বিরুদ্ধে সরব হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তারা জানায়, নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক। সংসদের দুই কক্ষে বিলটি পাশ হলে অমিত শাহ–‌সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো উচিত বলে, মার্কিন বিদেশ দপ্তরের কাছে সুপারিশও করে তারা। তবে ইউএসসিআইআরএফ–‌এর সুপারিশকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি ভারত। বরং ওই সংস্থার মন্তব্য পক্ষপাতদুষ্ট বলে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। ‌‌রাষ্ট্রপুঞ্জের সেক্রেটারি জেনারেলের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, আমরা জানি যে ভারতীয় সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে, এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে যেসব উদ্বেগ–‌উৎকণ্ঠা শোনা যাচ্ছে, তাও জানি। রাষ্ট্রপুঞ্জও আইনটির সম্ভাব্য ফল খতিয়ে দেখছে। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top