আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তারানা বার্কে। নামটি বেশ অপরিচিত। তাই না?‌ কিন্তু সেটা হওয়ার কথা ছিল না। এর কারণ তিনি নিজে মুখেই বললেন। ‘মি টু‌’ আন্দোলনের কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু শুরু কোথায় তার?‌ কোনও মানুষই তো এর প্রথম প্রস্তরটি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর নাম হিসেবে অনেকে জানেন হলিউড অভিনেতা অ্যালিসন মিলান। কিন্তু তিনি নিজে মুখে এই ভুল সংশোধন করিয়ে দিয়েছিলেন সাংবাদিক সম্মেলনে। ‘‌এক সেকেন্ড, এটা আমার শুরু করা আন্দোলন নয়। তারানা বার্কে এর স্রষ্টা।’‌ ‌এবারে আসা যাক, তারানা বার্কের কথায়। ‘একেই কৃষ্ণাঙ্গ। ‌তার ওপরে হলিউডের কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের মতো সুন্দরী নই আমি। বিখ্যাত নই। তাই ২০০৬ সালে কী করেছিলাম, সেটার কথা মানুষের মনে থাকবে না জানতামই। যখন ২০১৭ সালে অ্যালিসন মিলানের মতো একজন সাদা চামড়ার অভিনেতা এই আন্দোলনটা ফের শুরু করলেন। এবং ভুল সংশোধন করে আমার নামটি সকলকে বললেন, তখনই লোকে জানল। কিন্তু আমি কখনওই বলব না, সাদা চামড়ার মহিলারা এই আন্দোলনটাকে নিজেদের হস্তগত করে নিয়েছেন। অ্যালিসন ভাবতেই পারেননি তাঁর পোস্টটার পর এই আন্দোলনটি এভাবে শুরু হবে।’‌ 

 

 


অ্যালিসন মিলান হলিউড প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার কথা লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফের শুরু করেছিলেন ‘মি টু‌’ আন্দোলন। সেই অভিযুক্ত এবছরের শুরুতে গ্রেপ্তাহ হয়। তারানাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘‌এবার?‌’ তারানা মনে করেন না এটা একটা বিশাল সাফল্য, যার জন্য এখন বিশ্রামে চলে গেলে চলবে। না, অনেকটা পথ যাওয়া বাকি। ঘরে ঘরে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে। তার অধিকাংশ ঘটনা কোনওদিন জানাও যাবে না। একজন মহিলা, রূপান্তরকামী, শিশু, বিশেষভাবে সক্ষম, এমনকি পুরুষও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার শিকার হয়ে চলেছেন। একজন বিখ্যাত সাদা চামড়ার মানুষ জেলে যাওয়াটা আশ্চর্যের বিষয় বটেই। কিন্তু এ তো সবে শুরু। এখনও আমাদের অনেক কথা বলা বাকি। লিঙ্গ ও বর্ণের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে অনেক কাজ বাকি। এখানেই তাঁর কাছে প্রশ্ন‌ যায়, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকে ‘‌ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার’ আন্দোলন কি কোথাও গিয়ে ‘মি টু‌’ আন্দোলন‌কে চাপা দিয়ে দিচ্ছে?‌ তারানার মতে, এই দুই আসলে একটিই আন্দোলন। কিন্তু হ্যাঁ, যদি জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনার দু’‌মাস আগের ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যায়, দেখা যাবে, ১৩ মার্চ ব্রেওনা টেইলর নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার আগে পুলিশের পরপর আটটি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন। কেউ তখন একটা কথাও বলেনি। তাই আমি বলব, এখানে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের থেকে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের সম্ভবত আরও একটু জোরে চিৎকার করতে হবে। প্রশাসন কেন, সমস্ত মানুষের কান ভেদ করে মর্মে গিয়ে সেই আওয়াজ পৌঁছাক।   

জনপ্রিয়

Back To Top