আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিল মায়ানমার সরকার। ঐতিহাসিক রায়ে  ইয়াঙ্গন নর্থ ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক ইয়ে লুইন বলেছেন, সাংবাদিক ইয়া লোন এবং কোয়া সো উ ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি নথি সুরক্ষার আইনের ১সি ধারা ভেঙে গোপন তথ্য জোগাড় করেছেন। গত ১২ ডিসেম্বর থেকেই জেলে বন্দি ৩২ বছরের লোন এবং ২৮ বছরের উ। জেলে কাটানো ওই সময়টাও তাঁদের কারাদণ্ডের মধ্যেই বিচার্য হবে বলে জানিয়েছেন বিচারক। রায়দানের পরই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীরা, রাষ্ট্রপুঞ্জ, ইয়ুরোপিয়ান ইউনিয়ন, আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া অবিলম্বে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে বেকসুর খালাস দিতে বলেছে মায়ানমার সরকারকে। রয়টার্সের সম্পাদক জে অ্যাডলার বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, এই দিনটা শুধু রয়টার্সেরই নয়, মায়ানমার এবং সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের পক্ষে দুঃখজনক। রায় শোনার পর আদালতের বাইরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দু’‌জনের স্ত্রী এবং পরিবারের লোকজন।  
আদালতে লোন এবং উ জানান, উত্তর ইয়াঙ্গনের একটি রেস্তোরাঁয় দু’‌জন পুলিস অফিসার তাঁদেরকে ওই নথি তুলে দেন। তার কয়েক মুহূর্ত পরই তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। তদন্তকারী পুলিস অফিসার আদালতে সাক্ষী দিয়ে বলেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার খবর সম্প্রচারের জন্য দুই সাংবাদিককে জালে ফেলতেই তারা সম্পূর্ণ ঘটনাটি সাজিয়েছিল। রায়দানের পর লোন নিজের সাফাইয়ে বলেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। ন্যায়বিচারের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা আছে। গত বছর রাখাইন স্টেটের ইন ডিন গ্রামে মায়ানমার সেনা এবং পুলিসের যৌথ অভিযানে ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা এবং অনেকের নিগ্রহের ঘটনার তদন্ত করছিলেন লোন এবং উ। প্রথমে সেই ঘটনার কথা মায়ানমার সরকার অস্বীকার করলেও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারির পর সেনাবাহিনী ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল। 

জনপ্রিয়

Back To Top