‌সংবাদ সংস্থা, মুজাফ্ফরাবাদ (‌পাক–‌অধিকৃত কাশ্মীর)‌, ১৩ আগস্ট- পাকিস্তানের চিৎকার চেঁচামেচি সার। ৩৭০ ধারা রদ নিয়ে কোনও দেশ ভারতের বিরুদ্ধে রা কাড়েনি। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদেও কাউকে তারা পাশে পাবে না। ভালই বুঝেছে পাকিস্তান। দেশবাসীকে বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেছেন, ‘‌রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কেউ মালা হাতে পাকিস্তানের অপেক্ষায় নেই। মূর্খের স্বর্গে থাকবেন না।’‌
রবিবার পিটিভিতে কুরেশির একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়েছে। সেখানে কুরেশি বলেছেন, ‘‌আবেগ দেখানো সহজ এবং আপত্তি তোলা আরও সহজ। বিষয় বুঝে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। ওঁরা কেউ ফুলের মালা হাতে আপনার অপেক্ষা করছে না। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের যে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এনিয়ে কোনও সংশয় আছে?‌ সংশয় রাখবেন না। মূর্খের স্বর্গে বাস করবেন না। পাকিস্তান আর কাশ্মীরের লোকজনের সজাগ থাকা উচিত।’‌
আরও বলেন, ‘‌সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কাশ্মীর ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলিও পাকিস্তানের পাশে না থাকতে পারে। ভারতের বিশাল বাজারের দিকে সকলের নজর। অনেকেই সেখানে লগ্নি করতে চায়।’‌ জম্মু–কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জ, রাশিয়া, চীনের বক্তব্যে নজর রয়েছে পাকিস্তানের। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের অন্যতম রাশিয়া। তারা বলেছে, ‘‌সংবিধান মেনেই ৩৭০ ধারা রদ করেছে ভারত।’‌ কাশ্মীর সমস্যার মধ্যস্থতা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় ভারতীয় দূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা একটি সাক্ষাৎকারে বলেন,‘‌ মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন জম্মু–কাশ্মীর ইস্যুতে তাঁর মধ্যস্থতার প্রস্তাব নির্ভর করছে ভারত–পাকিস্তান কীভাবে বিষয়টা গ্রহণ করছে তার ওপর। ভারত মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিষয়টা আর আলোচনার টেবিলে নেই। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান তার পুরনো অবস্থানেই অনড়। মধ্যস্থতা নয়, আমেরিকা চায় দ্বিপাক্ষিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে ভারত–পাকিস্তান সমস্যার সমাধান করুক।’‌
২২জুলাই আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৈঠক করেন ট্রাম্পের সঙ্গে। তখনই ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁকে নাকি কাশ্মীর সমস্যার মধ্যস্থার অনুরোধ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্রাম্পের কথায় বিস্তর জলঘোলা হয়। মধ্যস্থতার প্রস্তাব খারিজ করে ভারত। পাকিস্তানের ভরসা এখন চীন। তেমন হলে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরপাত্তা পরিষদে বন্ধু দেশ পাকিস্তানকে সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছে চীন। 
৩৭০ ধারা রদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা পাকিস্তান। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালিহা লোধিকে চোর বলে দেশের লজ্জা বাড়ালেন এক পাক নাগরিক। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের অনুষ্ঠান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লোধি। সেখানে ছিলেন ওই পাক নাগরিক। তিনি লোধিকে প্রশ্ন করতে চান। কিন্তু আমল দেননি লোধি। চটে উঠে ওই ব্যক্তি বলতে শুরু করেন, ‘‌গত ১৫–২০ বছর ধরে আপনি কী করছেন?‌ আপনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। আপনি আমাদের টাকা চুরি করেছেন। আপনি চোর। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য নন আপনি।’‌ লোধি তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি আরও বলেন,‘‌বেআইনি কিছু করছি না। কারণ আমি একজন পাকিস্তানি।’‌ শেষে বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান লোধি। তাঁকে অনুসরণ করে এগিয়ে যান ওই ব্যক্তি। বলতে থাকেন,‘‌আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। এত বছর ধরে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’‌ সেই ভিডিও ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।‌

 

পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top