আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বিডেন এবার নিজের সহযোদ্ধার নাম ঘোষণা করলেন। উপরাষ্ট্রপতি পদে লড়ার জন্য বেছে নিলেন কমলা হ্যারিসকে। এই প্রথম কোনও কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা এবং অবশ্যই কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকায় এই পদের জন্য লড়ছেন।  
মঙ্গলবার টুইট করে এই ঘোষণা করেন ডেমোক্র‌্যাটদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বিডেন। লিখলেন, ‘‌সহযোদ্ধা হিসেবে কমলা হ্যারিসকে নির্বাচন করতে পেরে আমি গর্বিত। নির্ভীক যোদ্ধা। দেশের অন্যতম সেরা জননেতা।’‌ তিনি এও জানিয়ে দিলেন, ‘‌আমরা দু’‌জনে মিলে ট্রাম্পকে হারাব’‌। কমলাকে পাশে পেলে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট যে অনেকটাই নিশ্চিত হবে, সেকথা জানাতে ভোলেননি বিডেন।
এক কালে এই কমলাই ছিলেন বিডেনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। একটি বিতর্কে বিডেনের স্কুলের পরীক্ষার রেকর্ড নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন কমলা। কিন্তু ভোট বড় বালাই। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের টানতে সেই কমলাকেই ‘‌সহযোদ্ধা’‌ নির্বাচন করলেন ৭৮ বছরের বিডেন। 
যদিও আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গরা কিন্তু খুব সুনজরে দেখেন না কমলাকে। উদারপন্থী ভোটাররাও নয়। 
অতীতে কমলা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। সান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। আর এই দুই পদে থাকার সময় তাঁর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত কৃষ্ণাঙ্গদের চটিয়েছিল। তিনি কৃ্ষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি অত্যাচার নিয়েও মুখ খোলেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা। কমলা অবশ্য তখন বলেছিলেন, তিনি এক জন ‘‌প্রগতিশীল প্রসিকিউটর’‌। কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলা ভাঙাকে সমর্থন করবেন না।
তাহলে সেই কমলাকেই তুলে আনলেন কেন বিডেন?‌ তিনি নিজে বারাক ওবামার সময়ে উপরাষ্ট্রপতি হয়ে আট বছর কাজ করেছেন। এবার নিজের ক্ষেত্রে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর জন্য বহু মাস ধৈর্য ধরে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কমলাকেই বেছে নিলেন। কারণ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দু’‌জন সত্তোরোর্ধ্ব শ্বেতাঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলা মতো প্রার্থী উপরাষ্ট্রপতি পদে না লড়লে আমেরিকার তরুণ সমাজ ভোট নিয়ে আগ্রহ দেখাত না। বিশেষত কৃষ্ণাঙ্গরা। তার ওপর মহিলারা ভোটাররাও একটু মনোক্ষুণ্ণ হতেন।
এসব ভেবেই কমলাকে এগিয়ে দিলেন বিডেন। ডেমোক্র‌্যাটরা এই ভোটে জিতলে কমলাই হবেন প্রথম মহিলা উপরাষ্ট্রপতি। এর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বা উপরাষ্ট্রপতি পদে কোনও মহিলা বসেননি। দু’‌বার উপরাষ্ট্রপতি পদে লড়েছিলেন মহিলারা। ১৯৮৪ সালে ডেমোক্র‌্যাটদের টিকিটে জেরালডিন ফেরারো। ২০০৮ সালে রিপাবলিকানদের টিকিটে সারা পালিন। দু’‌বারই তাঁদের দল ভোটে হেরে যায়।  
বিডেন এবার ভোটে জিতলে তিনিই হবে আমেরিকার সবথেকে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার আর ভোটে লড়তে চাইবেন না। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার জন্য এগিয়ে যাবেন কমলা হ্যারিসই। কমলার জন্ম ওকল্যান্ডে। বাবা জামাইকার। মা ভারতীয়। ২০০৩ সালে প্রথম ভোটে জিতে সান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হন। ২০১৬ সালে প্রথম সেনেটর নির্বাচিত হন। ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেস অধিবেশনে প্রশ্ন করে রীতিমতো বিপাকে ফেলে দেন। তখনই নজর কাড়েন। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। নিজেকে ‘‌মানুষের জন্য কমলা’‌ আখ্যা দেন। ওকল্যান্ডে প্রথম জনসভায় ২০ হাজার মানুষ শুনতে এসেছিলেন তাঁর কথা। কিন্তু অ্যাটর্নি হিসেবে তাঁর কিছু সিদ্ধান্তই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার দৌড়ে তাঁকে পিছনে ফেলে দেয়। প্রগতিশীলদের কুনজরে পড়ে বিডেনের কাছে হারেন। যদিও শেষ পর্যন্ত মাতই দিলেন তিনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top