আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনাভাইরাস মোকাবিলা প্রকল্পে চূড়ান্ত ব্যর্থ হতে পারে ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ইইউ। এমনটাই মনে করছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিউসেপ্পি কন্টি। কন্টির পরামর্শ, ইইউ–কে শক্ত হাতে যে সব দেশ সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সাহায্য করতে হবে। কোভিড–১৯–এ ইওরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইতালিই। কন্টির মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই পৃথিবীবাসীর কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সাত সপ্তাহ আগে সেখানে প্রথম কোভিড–১৯–এর প্রকোপ শুরু হয় যা পড়ে সারা দেশকে কার্যত আতঙ্ক নগরীতে রূপান্তরিত করে দেয়। সেখানে এই ভাইরাসে ১,৩৯৪২২জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ১৭,৬৬৯জন। মৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০জন চিকিৎসক। এছাড়া নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও মারা গিয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ২৬,৪৯১জন। তবে এখন পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। যেখানে ১৪ দিন আগেও ৯১৯জন মারা গিয়েছিলেন একদিনে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪২জন মারা গিয়েছেন। সংক্রমণের হারও দুসপ্তাহ আগে ছিল সাত শতাংশ। সেটা এখন এক শতাংশে নেমে এসেছে।
কন্টি এই পরিস্থিতিকে শুধু সামাজিকই নয়, দেশের অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা বলেও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলছেন, বিজ্ঞানীরা অনুমতি দিলে কিছু কিছু ক্ষেত্র খুলে দিয়ে কাজ চালু করা হবে। লকডাউনের ফলে মানুষের হাতে অর্থ কমতে থাকায়, তুলনামূলকভাবে গরিব দক্ষিণ ইতালির একটা শপিং মলে খাবারের সন্ধানে কিছুদিন আগেই লুঠপাট করেছিল কয়েকজন সাধারণ মানুষ। ইতালি গত চার সপ্তাহ ধরে চলছে লকডাউন। তার ফলেই ক্রমে হাত রিক্ত হতে থাকায় মানুষজন ধৈর্য হারাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
ইতালি এবং কয়েকটি ইইউ রাষ্ট্র করোনা–বন্ড শীর্ষক ঋণ জারির পক্ষে সওয়াল করেছে, যেটা ইইউ দেশগুলো চোকাতে সাহায্য করবে। যার প্রবল বিরোধিতা করেছে নেদারল্যান্ডস্‌। তাদের ধারণা, এর ফলে ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে মতান্তর শুরু হতে পারে। কন্টি বলছেন, তাঁর দেশ যে বেদনার মধ্যে দিয়ে চলছে তা অনুমান করতে একমাত্র তিনিই পারবেন, অন্য কোনও দেশের নেতারা নন। কারণ, তাঁদের কাছে মৃতের সংখ্যা শুধু সংখ্যা হলেও সেই পরিবারগুলো স্বজন হারিয়েছেন।
ছবি:‌ বিবিসি.‌কো.‌ইউকে 

জনপ্রিয়

Back To Top