আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ–প্রতিবাদের সময় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে মৃত্যু হল ২৫ জনের। জখম আরও ১৩০ জন। ঘটনাটি ঘটেছিল স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলের আল–খিলানি স্কোয়্যার এবং সিনাক সেতুরউপরে। অর্থনৈতিক সংস্কার, দৈনন্দিন জীবনযাপনে আরও সুযোগসুবিধা, সমাজ কল্যাণ এবং দুর্নীতির বিরোধিতায় অক্টোবরের শুরু থেকেই ইরাক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে আমজনতা। ইরাক পুলিস সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের মতোই শুক্রবার সন্ধ্যাতেও যখন আল–খিলানি স্কোয়্যারে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা তখনই আচমকাই একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র বন্দুকবাজ সেখানে গিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে বিক্ষোভকারীদের উপর। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গুলিবৃষ্টি চালিয়ে যায় আততায়ীরা। নিরস্ত্র, নিরীহ বিক্ষোভকারীরা প্রাণ বাঁচাতে সংলগ্ন বাড়ি, মসজিদে আশ্রয় নেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা যখন প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিলেন, তখন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, শনিবার সকালে রীতিমতো কনভয় নিয়ে এসে ওই এলাকাগুলি ছাড়া তাহরির স্কোয়্যারেও গুলিবর্ষণ করতে থাকে আততায়ীরা। শুক্রবার রাতেই নজাফ শহরে এক জনপ্রিয় এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থনকারী মৌলবি মুক্তাদা আল–সদরের বাড়িতে সশস্ত্র ড্রোন হামলা হয়। তবে সেসময় ইরানে থাকায় তিনি বা তাঁর পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন। আল–সদরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়েছে বিক্ষোভকারী এবং বিরোধী দলের নেতাদের চাপ দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে শাসক দল মনোনীত প্রার্থীদেরই মেনে নিতে বাধ্য করার জন্যই এই গুলিবর্ষণ এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে সরকারই। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সাধারণ মানুষদের উপর গুলি চললেও সেসময় কোনও পুলিসের দেখা মেলেনি। এই ঘটনায় ইরাক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বাগদাদে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।  ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অবিলম্বে ইরাক সরকারকে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বলেছেন। ইইউ–র রাষ্ট্রদূত ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে ইরাক সরকারের নিন্দা করেছেন।
ছবি:‌ ডেইলিমেল‌ কো.‌ ইউকে            

জনপ্রিয়

Back To Top