আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌ভারতের জন্য সুখবর। আগামী একমাসের মধ্যেই ইরান চাবাহার বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেবে এ দেশের হাতে। বৃহস্পতিবার এই খুশির খবর জানিয়েছেন ইরানের সড়ক ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী আব্বাস আহমেদ আখুয়োন্দি। তিনি বলেন, ‘‌বন্দর নিমার্ণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। আশা করছি আগামী একমাসের মধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে এর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’‌ 
ইরানের মাটিতে ভারতের অর্থে নির্মিত বন্দরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী আব্বাস আহমেদ। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে চাবাহার বন্দরের হস্তান্তর এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। জানা গিয়েছে, বন্দর নির্মাণ হয়ে গিয়েছে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কাজও শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে ইরানের ওই বন্দর চালু হয়ে যাবে বলে মনে করছিল ভারত। জুন মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন যে, ২০১৯ সালের মধ্যে চাবাহার বন্দর চালু হয়ে যাবে। 
২০১৬ সালের মে মাসে ওমান উপসাগরের উপর চাবাহার বন্দর নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয় ভারত, ইরান এবং আফগানিস্তান৷ পাকিস্তানের দক্ষিণ–পশ্চিম জলসীমার খুব কাছে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে ভারত।

তার বদলে মেলে চাবাহার বন্দর ব্যবহারের অধিকার৷ জানা গিয়েছে, এই বন্দর থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানে চীন গদর বন্দর নির্মাণ করছে ফলে চাবাহার বন্দরটি ভারতের কাছে ও মধ্য–এশিয়া এবং আফগানিস্তানের কাছে গুরত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে বাইপাস করে এই বন্দরের সাহায্যেই ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে ভারত। এতদিন পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের অনুমতি দিল্লিকে দেয়নি ইসলামাবাদ৷ চাবাহার বন্দর নির্মাণে সেই বাধা দূর হবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ তাই এই বন্দর চালু হলে তিন দেশই বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হবে৷ পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে ঐক্য ও যোগাযোগ আরও বাড়বে৷
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক তিক্ত হওয়ায় ভারতের উপর চাপ বাড়িয়েছিল ওয়াশিংটন। সে বিষয়ে আব্বাস আহমেদ আখুয়োন্দি বলেন, ‘‌আমেরিকা বহিরাগত। ভারত–ইরান সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও মজবুত হবে। কোনও বহিরাগত শক্তি এতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না।’‌

 

 

চাবাহার বন্দর।

জনপ্রিয়

Back To Top