সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন: প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সরগরম মার্কিন মুলুক। একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন রিপাবলিকান ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট বাইডেন। এর মধ্যেই মেল–‌ইন–‌ব্যালটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক। প্রথম থেকেই এ নিয়ে বেসুরো গেয়ে চলেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তঁার দাবি, ৩ নভেম্বর নির্বাচনের পর আর যেন ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বা মেল–‌ইন–‌ব্যালট গ্রহণ না করা হয়। বিষয়টি গড়ায় আদালতে। নিম্ন আদালতের রায় বিপক্ষে যেতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ট্রাম্প শিবির। সেখানেও ধাক্কা। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ নর্থ ক্যারোলাইনা এবং পেনসিলভেনিয়ায় ৩ নভেম্বরের পর আরও ৬ দিন ব্যালট গ্রহণ করা যাবে।
এই রায়ের পর উৎফুল্ল বাইডেন শিবির। তবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার টুইট করে তিনি বলেন, ‘‌এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত খারাপ। এতে দেশের ক্ষতি হবে। আপনারা ভাবতে পারছেন ৯ দিনে কী হতে পারে!‌ ৩ নভেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়া উচিত।’‌ উল্লেখ্য, করোনার জেরে ডাক ব্যবস্থা বেহাল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিলেও মেল–‌ইন–‌ব্যালট আসতে দেরি হতে পারে— এই যুক্তিতে ৩ নভেম্বরের পর থেকে ৯ দিন পর্যন্ত আসা ব্যালট গণনা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন নর্থ ক্যারোলাইনা নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, পেনসিলভেনিয়ার ক্ষেত্রে ভোটের পর আরও ৩ দিন পর্যন্ত আসা মেল বা অ্যাবসেন্টি ব্যালট গোনা যাবে বলে জানিয়েছিল আদালত সেপ্টেম্বর মাসেই। স্থানীয় রিপাবলিকানরা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও সুপ্রিম কোর্টে তা খারিজ হয়ে যায়। ভোটের আগে দুই প্রদেশ নিয়ে কোর্টের সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা।
প্রসঙ্গত, উইসকনসিন, পেনসিলভেনিয়া ও ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলিতে মেল–‌ইন–‌ব্যালটে ‘কারচুপি’ রুখতে নেমে পড়েছেন হাজার হাজার ট্রাম্প–‌সমর্থক। ওই ‘নির্বাচনী প্রহরী’দের গোটা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নজর রাখার আবেদন জানিয়েছেন ট্রাম্প। মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত ওই কর্মীরা নাকি কোনও কারচুপি হলেই তা ক্যামেরবন্দি করে ফেলবেন। প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা হাজার হাজার ভুয়ো ব্যালট জমা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয়

Back To Top