আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠিয়ে দেবে ভারত। দু’‌দেশের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি রুখতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত। আগাম সতর্কবার্তা না পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে দিল্লির ওপর বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিল ঢাকা। প্রতিবেশী দেশের বাজারেও বাড়তে শুরু করেছিল পেঁয়াজের দাম। এই পরিস্থিতি দু’‌দেশের হাইকমিশনারদের বৈঠকের পরই বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। রপ্তানি বন্ধ করার আগে যে পরিমাণ পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ছিল, তা পৌঁছে দেওয়া হবে, জানা গিয়েছে সরকারি সূত্রে। 
কেন্দ্রের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের তরফে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘‌সমঝোতার খেলাপ’ বলছে ঢাকা। তাদের দাবি, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া হলে পেঁয়াজ আমদানির অন্য ব্যবস্থা করত বাংলাদেশ!‌ সংবাদমাধ্যম–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এম সাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘‌এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হলে বাংলাদেশকে আগে থেকে জানানোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে তাঁদের অলিখিত বোঝাপড়া আছে।’‌ 
গত বছরেও দেশের বাজারে দাম বাড়তে থাকায় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল মোদি সরকার। সে সময়েও বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম কেজি দরে ৩০০ টাকা ছুঁয়েছিল। ভারত সফরে সেই প্রসঙ্গ তোলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছিলেন, এভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। আগে থেকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিলে ভাল হত, তাহলে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করত বাংলাদেশ। 
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সরবরাহ কম দেখে লোকে আগেভাগেই বেশি বেশি করে পেঁয়াজ কিনে ঘরে মজুত করতে চাইছে। আর যার জেরে বেশিরভাগ দোকানেই পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সরকারি বাণিজ্যিক কর্পোরেশনের ট্রাকে করে পেঁয়াজ বেচতে হচ্ছে ৩০ টাকা কিলো দরে। তাও কোনও ক্রেতাকেই ১ কেজির বেশি পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে না। 

জনপ্রিয়

Back To Top