আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সম্প্রতির ঘটনা নয়। প্রায় তিন বছর আগে থেকেই ভারত সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে চীন। বিশেষত বায়ুসেনা ঘাঁটি, হেলিপোর্টের সংখ্যা দ্বিগুন বাড়িয়েছে চীন। ২০১৭ সালে ডোকলাম সমস্যার পর থেকে এই কাজটা করে চলেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি।
২০১৭ সালের জুনে ডোকলামে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জড়ো হয় চীনা ফৌজ। জামফেরি রিজের কাছে ভুটান সেনা ছাওনির দিকে চীন বাড়াতে চাইছিল রাস্তাটি। কিন্তু ভুটান জানিয়ে দেয়, ওই এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। সমর্থন করে ভারত। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ রাখতে বলে। তার পর থেকেই নাকি সীমান্ত কৌশল অনেকটাই বদলে ফেলেছে চীন। 
এই তথ্য জোগাড় করেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা স্ট্র‌্যাটফোর। বহু দিন ধরে বেশ কয়েকটি উপগ্রহ চিত্র পরখ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে তারা। একটি রিপোর্টও তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্টটির লেখক সিম টাক জানালেন, পূর্ব লাদাখের উত্তেজনা একটি বড়সড় পরিকল্পনার অংশ মাত্র। বহু দিন ধরেই এই সীমান্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে একটু একটু করে সামরিক পরিকাঠামো শক্ত করছে চীন। 
পাশাপাশি রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, সামরিক পরিকাঠামোর নির্মাণ এখনও চলছে। তাই ভারত–চীন সীমান্তে লাল ফৌজের যে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কল্পের শুরু। এই নির্মাণ শেষ হলে চাপে বাড়বে ভারতের বলেই মত সিম টাকের। তখন চীনা ফৌজের সক্রিয়তা আরও বাড়বে। 
রিপোর্ট অনুযায়ী চীন ভারত সীমান্তের কাছে ১৩টি নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে। তিনটি বিমানঘাঁটি, পাঁচটি হেলিকপ্টার ওঠা নামার জন্য পোর্ট, পাঁচটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি। চারটি হেলিপোর্টের নির্মাণ এই মে মাসের পর থেকে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেমন বেজিং জোর করে আধিপত্য কায়েম করছে, জমি দাবি করছে, তেমন এই লাদাখ সীমান্তেও করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। 
মে মাস থেকেই পূর্ব লাদাখে দুই দেশের চাপানউতোর চলছে। প্যাংগং হ্রদের তীরে ঘাঁটি তৈরি করেছে চীনা ফৌজ। জানা গেছে, ওই অংশ ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত। সেই নিয়ে দুই দেশের  সেনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ১৫ জুন। শহিদ হন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। তার পর থেকে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে আলোচনা চললেও সুরাহা মেলেনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top