সংবাদ সংস্থা, ওয়াশিংটন: ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যতটা দুর্বল হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, আদতে তার থেকেও বেশি দুর্বল হচ্ছে। জানা কথা, তাও আবার বলল আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফ। এই দুর্বল বৃদ্ধির যে কারণগুলো তারা ইঙ্গিত করছে তা হল, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরের আর্থিক সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক রুগ্‌ণতা এবং বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা। এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই উদ্বেগ জানালেন আইএমএফ–এর মুখপাত্র জেরি রাইস। ৭% অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভারতের ক্ষেত্রে ছিল। তার থেকে অনেকটাই কমে ৫% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল–জুন ত্রৈমাসিকে। এই হার গত সাত বছরের মধ্যে সবথেকে কম। গত বছরের একই সময় এই বৃদ্ধির হার ছিল ৮%। জেরি রাইস বলছেন, পুরনো হিসেব ভুল প্রমাণ করে নতুন তথ্য–পরিসংখ্যান আসছে, আপাতভাবে যার চেহারাটা একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয়। যে কারণে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৭.‌৫% থেকে এখনই ০.‌৩% কমিয়ে ৭.‌২% করে দিয়েছে আইএমএফ। ভারতের মতো বড় অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেটা এক বড়সড় অঙ্কের ঘাটতি। এর বাস্তবিক কারণ কলকারখানার উৎপাদন কমে যাওয়া এবং কৃষিজ উৎপাদনের ঘাটতি বলে আইএমএফ–এর পরিসংখ্যান–গবেষণা বিভাগের ধারণা। এর পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা এবং ক্রেতার সংখ্যা কমেছে। অন্য দিকে ক্রমশ কমছে বেসরকারি এবং ব্যক্তিগত লগ্নি। সব মিলিয়ে পিছনে টেনে ধরে রেখেছে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে।‌‌
এদিকে দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার তথ্য গোপনের জন্য কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। প্রসঙ্গ, মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব নিয়ে গোয়েলের উদ্ভট মন্তব্য। টিভির খবরে বেহাল জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে যে–‌সব পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, তা অগ্রাহ্য করে প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বপ্নের ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ওপরেই যে নজর রাখা উচিত, তা বোঝাতে গিয়ে গোয়েল গতকাল বলেন, অত অঙ্ক করবেন না, আইনস্টাইন কিন্তু অঙ্ক কষে মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব আবিষ্কার করেননি!‌ মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের জনক নিউটনের সঙ্গে আইনস্টাইনকে গুলিয়ে ফেলায় নানা কটাক্ষ, রসিকতায় টুইটার সরগরম তার পর থেকেই। রঘুরাম রাজন কিন্তু সরাসরি মূল প্রসঙ্গে গেছেন। টুইট করেছেন:‌ অর্থনৈতিক মন্দার গুরুত্ব (‌গ্র্যাভিটি)‌ যখন আপনি বুঝতে পারেন না, তখন আপনার যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। যদি কেউ বলেন, অঙ্ক দিয়ে মাধ্যাকর্ষণ বা অর্থনীতি বোঝা যায় না, তখন এটা বোঝা যায় যে, তিনি আদত পরিসংখ্যান লুকোনোর চেষ্টা করছেন। নিউটন তখন মুচকি হাসেন।
গোয়েল প্রথমে বলার চেষ্টা করেছিলেন, তঁার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা হচ্ছে। তিনি নির্দিষ্ট একটি প্রসঙ্গে কথাটা বলেছিলেন। প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে স্রেফ ওই মন্তব্যটি তুলে নিয়ে মশকরা চলছে। শুক্রবার গোয়েলই আবার মেনে নিলেন, নিউটনের বদলে আইনস্টাইনের নাম ভুল করে, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। অবশ্য তার পরেও আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেন গোয়েল। বলেন, ‘‌ভুল কে না করে!‌ সবাই ভুল করে। আইনস্টাইনই বলে গেছেন, যে কখনও ভুল করেনি, সে কোনও দিন নতুন কিছু করার চেষ্টাই করেনি। কাজেই আমি ভুল করতে ভয় পাই না। সেই ভুল স্বীকার করতেও আমার সঙ্কোচ নেই।’

জনপ্রিয়

Back To Top