‌সংবাদ সংস্থা: সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৬/‌১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী জামাত–উদ–দাওয়া প্রধান হাফিজ সইদ। বুধবার লাহোর থেকে গুজরানওয়ালা যাওয়ার পথে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সন্ত্রাস দমন বিভাগ। গুজরানওয়ালার সন্ত্রাস দমন আদালতের নির্দেশে তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে লাহোরের কোট লাখপত জেলে রাখা হয়েছে।
টাকা নয়ছয় এবং সন্ত্রাস সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে হাফিজের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিটিডি। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স জঙ্গিদের টাকার উৎস সন্ধানের নির্দেশ দিলে তদন্ত শুরু করে সিটিডি। ধরা পড়ে, আল–আনফাল ট্রাস্ট, দাওয়াতুল ইরশাদ ট্রাস্ট, মুয়াজ বিন জাবাল ট্রাস্টের মতো বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার মারফত সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের টাকা সংগ্রহ করে হাফিজ। সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী জামাত–উদ–দাওয়া এবং লস্কর–ই–তৈবার সম্পত্তিও গোপনে রক্ষণাবেক্ষণ করে। প্রমাণ হাতে আসার পর ৩ জুলাই হাফিজ–‌সহ জামাত–উদ–দাওয়ার ১৩ জন নেতার বিরুদ্ধে ২৩টি এফআইআর করে সিটিডি। মামলা চলছে লাহোর, গুজরানওয়ালা এবং মুলতানের আদালতে। এর মধ্যে একটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করতে এদিন গুজরানওয়ালা যাচ্ছিল হাফিজ। 
এই প্রথম নয়। ২০১৭ সালে চার সঙ্গী–‌সহ হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল পাক পুলিশ। কিন্তু ১১ মাস গৃহবন্দি থাকার পর রেহাই পেয়ে যায় সবাই। কারণ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জুডিশিয়াল রিভিউ বোর্ড হাফিজ ও তার সঙ্গীদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়াতে চায়নি। ওদিকে লস্কর–ই–তৈবার প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলার জন্য বেআইনি ভাবে জমি দখলের মামলাও চলছে হাফিজ–‌সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় সোমবার লাহোরের সন্ত্রাস দমন আদালত থেকে হাফিজ ও তার তিন সঙ্গী আগাম জামিন পেয়েছে।  
২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। তিনশোর বেশি আহত। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন মার্কিনিও ছিলেন। হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ। ভারত তথ্য–প্রমাণ দিলেও আমল দেয়নি পাকিস্তান। পাকিস্তানে অবাধেই ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে হাফিজকে। মিটিং–মিছিলে লাগাতার ভারত–‌বিরোধী স্লোগান দিয়েছে হাফিজ। ২০১২ সালে আমেরিকা হাফিজকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বিশ্ব জঙ্গি তকমা দেয়। হাফিজকে বিচারের আওতায় আনার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। মুম্বই হামলার দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত নভেম্বরে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত বন্ধের লক্ষ্যে কাজ করছে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। তারাও জানায়, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত বন্ধে পাকিস্তানের আইন পাকাপোক্ত নয়। পুলওয়ামা হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ে। বেগতিক বুঝে পাকিস্তানের ভেতরে হাফিজের দাতব্য সংস্থা ফালাহ–ই–ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন‌ ও জামাত–উদ–দাওয়ার সম্পত্তির দখল নেয় ইমরান খানের সরকার। লাহোর ও মুরিদকিতে জামাত–উদ–দাওয়ার সদর দপ্তরে হাফিজের প্রবেশে বিধি নিষেধ চাপানো হয়। গ্রেপ্তার করা হয় জামাত–উদ–দাওয়ার আরেক নেতা ও হাফিজের শ্যালক আব্দুল রেহমান মাক্কিকে।‌‌‌ ২১ জুলাই আমেরিকা সফরে রওনা হবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার আগে সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের সদিচ্ছার প্রমাণ দিতেই হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top