আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌অস্ট্রিয়ার একটি ছবির মতো সুন্দর গ্রাম ফাকিং। জনসংখ্যা ১০০ জন। কিন্তু নামের আক্ষরিক অর্থের কারণে বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ইন্টারনেটে অপদস্থ হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। কারণ ইংরেজি এই শব্দের অর্থ মৈথুন। তাই এবার গ্রামের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টার্সডর্ফ মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল। এই মিউনিসিপ্যালিটিরই আওতাধীন গ্রামটি। মেয়র আন্দ্রিয়া হল্‌জনার ঘোষণা করেছেন, ২০২১ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে গ্রামটির নাম বদলে করা হচ্ছে ফাগিং।
অস্ট্রিয়া–জার্মানি সীমান্তে অবস্থিত এই গ্রামটির নামের মানে কিন্তু মোটেও ইংরেজি শব্দের অর্থ বোঝায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাকিং গ্রামের নামের ইতিহাস ১১ শতকের পুরনো। ১০৭০ সালে এখানে প্রথম জনবসতি গড়ে ওঠে। আবার লোকপ্রবাদ, ষষ্ঠ শতকে ফোকো নামের এক ব্যাভারীয় পণ্ডিত প্রথম এই গ্রামটি খুঁজে পান। তাঁর নামেই এই গ্রামের নাম দেওয়া হয়। ১৮২৫ সালের মানচিত্রেও এই গ্রামের নামোল্লেখ আছে।
এতোদিন এই নাম নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছিল না গ্রামবাসীদের। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তের পরই সমস্যা শুরু হয়। ইংরেজভাষী পর্যটকরা এই গ্রামের প্রবেশপথের সামনে গ্রামের নাম লেখা হোর্ডিং–এর ছবি অথবা হোর্ডিং সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ছবি তুলে ইন্টারনেটে নামের ইংরেজি অর্থের সঙ্গে জুড়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ শুরু করেন। অনেকে আবার হোর্ডিং চুরি করেও নিয়ে গিয়েছেন মজা করতে। অস্ট্রীয় সাহিত্যিক কুর্ত পাম তাঁর বইয়ে ফাকিং গ্রামের উল্লেখ করেন। যা সংবাদ শিরোনামে আসে। এমনকি ওই বই অবলম্বনে ‘‌ব্যাড ফাকিং’‌ নামে একটি ছবিও হয়। তারপরই তাঁদের গ্রামের নাম নিয়ে চলা বিদ্রুপের ব্যাপারে টের পান গ্রামবাসীরা। পর্যটকদের এই মজা, ব্যঙ্গবিদ্রুপ নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেই তাই এবার গ্রামের নাম বদল করতে চলেছেন গ্রামবাসীরা। তবে অনেকে আবার এভাবে ঐতিহাসিক একটি নাম বদলের বিপক্ষেও মত দিয়েছেন।       

জনপ্রিয়

Back To Top