আজকালের প্রতিবেদন: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কর্মজীবন জীবন শুরু হয়েছিল পাক সেনাবাহিনীতে। ছাত্রজীবনেও তিনি রাজনীতির সংস্পর্শে আসেননি। মৃত্যুর আগে তঁার বড় পরিচয় ছিল, তিনি রাজনীতিবিদ। রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, শেষ পর্যন্ত ছিলেন একাদশ সংসদের বিরোধী নেতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আওয়ামি লিগে এবং ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যার কারণে বিএনপি–‌র নেতৃত্বে ধস নামে। তখন দেশের রাজনীতিতে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। সেই সুযোগে রাজনীতিতে আসেন এরশাদ। পরে আওয়ামি লিগ এবং বিএনপি জোটের রাজনীতির সমান্তরালে জাতীয় পার্টি গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায় জন্ম এরশাদের। যদিও কোনও কোনও তথ্যমাধ্যম বলছে, তাঁর জন্ম ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। তবে এরশাদ আত্মজীবনীতে লিখেছেন, তঁার জন্ম কুড়িগ্রামে মামার বাড়িতে। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়া শেষ করেন। ১৯৫২ সালে পাক সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে চাকরি পান। ১৯৬০–‌৬২ সালে তিনি চট্টগ্রামে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন। ১৯৬৮ সালে শিয়ালকোটে ৫৪তম ব্রিগেডের মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯–‌৭০ সালে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১–‌৭২ সালে সপ্তম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এরশাদ পশ্চিম পাকিস্তানে আটকে পড়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি দেশে আসেন। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদে তঁাকে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮–‌এর ডিসেম্বরে করা হয় সেনাবাহিনীর প্রধান। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর প্রায় ১০ মাস পর, ১৯৮২–‌র ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। একই সঙ্গে দেশে জারি করেন সামরিক শাসন। নিজেকে ঘোষণা করেন প্রধান সামরিক শাসক। ১৯৮৩–‌র ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএফএম আহসানউদ্দিন চৌধুরিকে অপসারণ করে তিনি রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৮৬–‌তে জাতীয় পার্টি গঠনের ঘোষণা করেন এরশাদ। সে–‌বছরই অক্টোবরে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এরশাদ ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯০–এর ৬ ডিসেম্বর গণ–‌অভ্যুত্থানের মুখে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। গ্রেপ্তার হন ১৯৯১ সালে। কারাগারে থেকেই ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুরের ৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে জিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তৎকালীন সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ১৯৯৭ পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসেন এরশাদ। 

জনপ্রিয়

Back To Top