সমীর দে, ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর- শুক্রবার রাতে ভারতের মালদা সীমান্ত লাগোয়ো চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের টিকারামপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ ভারতীয় জাল টাকা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহি শহরের বেলদারপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ভারতীয় জাল টাকা পেয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করে আরেক ব্যক্তিকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার রুবেল হোসেন ও রাজশাহিতে গ্রেপ্তার বাড়ির মালিক দরদুজ্জামান বিশ্বাস (৫৭) ওরফে জামান জাল নোট তৈরির সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। দরদুজ্জামান এর আগে জাল টাকা–‌সহ চারবার পুলিস ও র‌্যাবের হাতে আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুরনো কারবারে ফিরেছে। ভারতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাকে ধরার জন্য একাধিকবার বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল। গোয়েন্দারা বলছেন, উত্তরাঞ্চলে জাল নোট তৈরিতে অন্তত ১০টি সিন্ডিকেট সক্রিয়। 
র‌্যাব–‌৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আবু সাইদ আবদুল্লাহ আল মুরাদ জানান, রুবেল হোসেনের কাছে ৫০ লাখ ভারতীয় জাল টাকা ছাড়াও কিছু বাংলাদেশি জাল টাকা, ৬টি উচ্চপ্রযুক্তির কালার প্রিন্টার, ২টি উচ্চ ক্ষমতার ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। 
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহি–‌সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে জাল ভারতীয় নোট। রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকায় জাল টাকা তৈরির ১০টির বেশি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে সূত্রগুলোর দাবি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাল নোট ভারতে পাচার করছে বলে অভিযোগ। বিনিময়ে সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক, ফেনসিডিল, হেরোইন ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য। দু’‌দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্তাদের মধ্যে আলোচনার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জাল নোট। ভারতীয় স্পেশ্যাল ক্রাইম ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ৭৮ কোটি জাল টাকা উদ্ধার ও ২৪৫ জন পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top