উৎসা শরমিন, কিটো: দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর বিরুদ্ধে ইকুয়েডরে ক্ষোভ বাড়ছিল চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপে। সোমবার রাতে ইকুয়েডরের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ২০ হাজার মানুষ রাজধানী কিটোতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর নাটকীয়ভাবে চম্পট দিলেন প্রেসিডেন্ট মোরেনো। অন্য একটি শহর থেকে সরকার চালাবেন তিনি। সেনা–‌পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যরিকেড পেরিয়ে, প্রেসিডেন্ট ও পার্ষদদের অবর্তমানে এদিন সংসদের দখল নেন বিক্ষোভকারীরা। সংসদ ভবনে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতির সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস চালাতে হয়। 
ইকুয়েডরের আর্থিক হাল সঙ্গিন। এই অবস্থায় ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (‌আইএমএফ)‌–‌এর দ্বারস্থ হয় সরকার। কয়েক‌শো কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে আইএমএফ। তবে তা শর্তসাপেক্ষে। পরিবর্তে ইকুয়েডর সরকারকে খরচে লাগাম টানতে বলেছে। তারপরেই ‘‌প্যাকেটাজো’‌ নামক কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মোরেনো। গত মঙ্গলবার তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও তা চালু করেছে সরকার। প্রথমেই জ্বালানি তেলের ভর্তুকি উঠেছে। ফলে রাতারাতি পেট্রোল, ডিজেলের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশ। এবং প্রতিবাদে দেশজুড়ে পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। 
তা প্রতিরোধে কিছু ছাড়ের কথা বলে সরকার। তবে তাতে কান দেয়নি জনগণ। ফলে, গত এক সপ্তাহ ধরে ইকুয়েডরে কখনও বিক্ষিপ্ত, কখনও সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ চলছেই। একটি প্রতিবাদ মিছিলে বলপ্রয়োগ করেছে সেনা–‌পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস চালিয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৭৭ জন বিক্ষোভকারী। দু’‌জনের মৃত্যু হয়েছে। 
এরপর গতকাল থেকে প্রতিবাদ জোরদার করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী। তারা দেশের সমস্ত জাতীয় সড়কের দখল নেয়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে আক্রমণের নিশানা করে। তারপর তারা পায়ে হেঁটে কিটো রওনা দেয় সরকারের ‘‌মুখোমুখি’‌ হতে। মোরেনোর তিন পূর্বসূরিকে উৎখাত করেছিল জনরোষ। এবার তাঁর পালা, এমন এক আশঙ্কা করে কিটোয় সেনা–‌পুলিশকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে নিজে রাজধানী ছাড়েন মোরেনো। এই ঘটনার পর কিটোতে জরুরি অবস্থা জারি করেন শহরের মেয়র ইউন্ডা মাচাডো। সরকারের সমস্ত কাজ স্থগিত রয়েছে। সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সন্ধে ৭টার পর বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ফলে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ মজুত করতে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। গত ১০ বছরে এমন পরিস্থিতি দেখেনি ইকুয়েডরবাসী। 

জনপ্রিয়

Back To Top