আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ২০১৪ সালের পর কঙ্গোয় আবার মহামারির আকার নিয়েছে ইবোলা। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফনে দুজারিখ জানিয়েছেন, কঙ্গোর বিভিন্ন প্রদেশে নতুন করে ১,০৪১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। কঙ্গোর কঠিন আবহাওয়াই এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হু। 
ইবোলা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্যও বিশেষ সুরক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ৩৩৪ জন ইবোলা আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার পর ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। যাতে নতুন করে কোনও এলাকায় ছড়িয়ে না পরে সেজন্য কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকা ইবোলা প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের।

প্রায় ৭৬,৪২৫ জনকে ওই প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। 
২০১৪ সালে এই মারণ ভাইরাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত্যু হয়েছিল ১১,০০০ জনের। তারমধ্যে শুধু কঙ্গোয় মৃত্যু হয় ৬২৯ জনের। 
১৯৭৬ সালে প্রথম এই ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছিলেন দক্ষিণ সুদানের নাজারা এলাকার বাসিন্দারা। একই সঙ্গে এই ইবোলা ভাইরাস দেখা দিয়েছিল কঙ্গোর ইয়ামবুকুতে। ইবোলা নদীর ধারে ছিল সেই এলাকা। সেকারণেই এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় ইবোলা ভাইরাস। তারপরে আবার ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকা এবং কঙ্গোতে দেখা দেয় ইবোলা ভাইরাস। বাঁদর, শিমপাঞ্জি, ফল খেকো বাদুড়ের শরীরেই প্রথমে বাসা বাঁধে এই ভাইরাস। আফ্রিকা এবং কঙ্গো অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত বাঁদর, শিমপাঞ্জির মাংস খেয়ে থাকে। এই আক্রান্ত পশুদের রক্ত, মাংস থেকেই মানুষের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী ইবোলা আক্রান্ত মানুষ অথবা পশুকে সমাধিস্থ করার সময়ও সংক্রমণ ঘটতে পারে এমনই মারাত্মক এই ভাইরাস। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top