‌আজকাল ‌‌ওয়েবডেস্ক: করোনার জেরে গোটা বিশ্বে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ‌শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত ২১,‌৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪,‌৭২,৩৮১ জন। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে থমকে রয়েছে গোটা বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ডোমিটার নামে ওয়েবসাইটটি জানাচ্ছে, প্রায় এক লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ।
●  আতুঁরঘর চীন হলেও করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইওরোপ। 
চীনের থেকেও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি স্পেনে। তবে সবথেকে বেশি ইটালিতে। ইতালির পর স্পেনেও মৃত্যুমিছিল চিনকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল সেক্রেটারি আন্তনিও গুতেরেস বলেন, ‘কোভিড-১৯ সমগ্র মানবতার কাছেই একটা ভয়ের বিষয়। ফলে সব মানুষকে এক হয়ে লড়তে হবে। কোনও একটি দেশ এটা রোখার জন্য ব্যবস্থা নিলে কোনও লাভ হবে না। এখন সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে হবে।’ গত সপ্তাহ থেকে স্পেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইটালিতে একদিনে ৬০০০-র বেশি মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী স্পেনে তখন মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০০ পেরিয়ে গিয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে হল এবং শপিং মলগুলিকে অস্থায়ী মর্গে পরিণত করা হয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় স্পেন থেকে ৬০০০-র বেশি সংক্রমণের খোঁজ মিলেছে। সে দেশেও আক্রান্তদের সংখ্যা ছুঁয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। বেশিরভাগই রাজধানী মাদ্রিদের ঘটনা। স্পেনের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেশ কিছু জায়গায় বৃদ্ধদের মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেনা নামানো হলেও তা আয়ত্ত্বে আনা যাচ্ছে না।
● আমেরিকা ও ব্রিটেনের অবস্থাও তথৈবচ। বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে থাকা আমেরিকা ও ব্রিটেনও ক্রমশ প্রমাদ গোনা শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৫ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ৮০০–এর বেশি মানুষের। ব্রিটেনেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৮০০০-এর বেশি মানুষের শরীরে। মৃত্যু হয়েছে ৪৪৩ জনের। খোদ ইংল্যান্ডের রাজপুত্র ও হবু রাজা প্রিন্স চার্লসও এর কবলে পড়েছেন। ফলে অবস্থা কতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে তা নতুন করে বলা বৃথা।
এই প্রথমবার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক প্যাকেজের অনুমোদন দিল মার্কিন সেনেট। বুধবার সেই বিল পাশ করানো হয় সেনেটে। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস্‌–এও পাঠানো হয়েছে। আপাতত ৬৫ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে আমেরিকায়। মৃত্যু হয়েছে ৯৩০ জনের। নিউ ইয়র্ক যেন নতুন করোনা–কেন্দ্রস্থল হিসেবে তৈরি হচ্ছে। তবে ইটালি ও স্পেনই এখন সবচেয়ে খারাপ সময় দেখছে। পরবর্তী খারাপ সময়ের প্রস্ততি নিচ্ছে আমেরিকা।

জনপ্রিয়

Back To Top