সংবাদ সংস্থা
‌করোনা ভাইরাসের হাত থেকে এখনই নিস্তার নেই। হয়তো কোনওদিনই করোনা নির্মূল হবে না। কোভিড–১৯ নিয়ে নতুন আশঙ্কার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বুধবার হু–র জরুরি পরিস্থিতি বিভাগের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসও হয়তো এইচআইভি–র মতো থেকে যাবে। ‌মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানো এমন ভাইরাস আমরা প্রথম দেখছি। ’‌ 
মাইকেল রায়ান লকডাউন তোলা নিয়েও বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘‌অনেক দেশ ভাবছে কোনও একটা জাদু কাজ করবে। আর লকডাউন তোলার পর সব ঠিকঠাক চলবে। দুটো ভাবনাই ভিত্তিহীন এবং বিপজ্জনক।’‌
হু–র প্রধান টেড্রোস অ্যাডানম গেব্রেইসাস এদিন আরও একবার লকডাউন তোলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন,‘‌অনেক দেশই চাইছে অন্যভাবে ভাইরাসের মোকাবিলা করতে। কিন্তু আমরা পরামর্শ দেব, সর্বোচ্চ স্তরের সাবধানতা অবলম্বন করার।’‌ 
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে করোনা প্রথম থাবা বসায় চীনের উহান শহরে। সাড়ে পঁাচ মাস সময় পেরিয়ে গিয়েছে। অন্তত ৩ লক্ষ মানুষের প্রাণ নিয়েছে করোনা। আক্রান্ত ৪৪ লক্ষের বেশি মানুষ। ‘হু’ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, লকডাউন যদি তুলে নিতেই হয়, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন ‘চূড়ান্ত নজরদারি’। কারণ লকডাউন শিথিল করা মাত্র দ্বিতীয়বার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর আসছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেই। ভাইরাসটিও চরিত্র বদলাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। 
নতুন সংক্রমণ ঘটেছে চীনের উহানেও। রায়ান জানিয়েছেন, সংক্রমণের ‘ক্লাস্টার’গুলি যদি থেকে যায়, তা হলে রোগটি চলতেই থাকবে। ভাইরাসটি আবার আক্রমণ করবে পুরোদমে, এমন ঝুঁকি থেকেই যায়।
টাকার জোর
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৬০ কোটি মানুষের টিকাকরণ প্রয়োজন। তবেই গোষ্ঠীবদ্ধ প্রতিরোধ সম্ভব এবং করোনার সংক্রমণ হ্রাস পাবে। তবে যে দেশগুলি সবথেকে বেশি দাম দেবে, তাদেরই প্রতিষেধক বিক্রি করবে উৎপাদক সংস্থাগুলি। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লুয়ের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটেছিল। আমেরিকা–‌সহ বিশ্বের গুটিকয়েক দেশ তখন অধিকাংশ প্রতিষেধক কুক্ষিগত করেছিল। সেই ঘটনা এবারও ঘটতে চলেছে। যেমন পিপিই এবং ভেন্টিলেটর আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলির কাছে কার্যত নেই। জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

জনপ্রিয়

Back To Top